দেশভাগ নিয়ে আমাদের পাঠ্য ইতিহাসে তারিখ, ঘোষণা, মানচিত্র ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপস্থিতি প্রবল। কিন্তু সেই ইতিহাসের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের—বিশেষত বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর-তরুণদের—অভিজ্ঞতা ও বয়ান খুব কমই আলোচনায় আসে। বলতে পারেন এই লেখা সেই শূন্যস্থান পূরণের প্রয়াস।
তবে “৪৭ এর শিশুর চোখে পাকিস্তান চ্যাপ্টার” কোনো রাষ্ট্রীয় বয়ান নয়, আবার স্মৃতিচারণামাত্রও নয়। এটি একটি সময়কে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে বড়দের সিদ্ধান্ত, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং বদলে যাওয়া বাস্তবতার ভেতর দিয়ে একটি শিশুমনকে শেইপ দেয়া হয়েছে। এখানে ইতিহাস কোনো দূরের বিষয় নয়; ইতিহাস এখানে জীবন-ঘনিষ্ট কৌতূহল এবং নীরব প্রশ্ন।
এই লেখার গুরুত্ব এই জায়গায় যে, এটি পাঠককে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণে প্ররোচিত করে না। বরং পাঠককে নিয়ে যায় অনুভবের ভেতর দিয়ে এমন এক অভূত সত্যের দিকে যেখানে দেখা যায়- একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া কতটা গভীরভাবে ব্যক্তিমানুষের জীবনে ছাপ ফেলে, এমনকি যখন সে মানুষটি তখনো শিশু! বস্তুত, রাজনীতিই মানুষকে ম্যাচিউর ক’রে তোলে। সম্পাদক হিসেবে আমি মনে করি, এই ধরনের লেখা ইতিহাস বোঝার পরিসরকে বিস্তৃত করে। এটি পাঠককে তথ্যের বাইরে গিয়ে মানবিক অভিজ্ঞতার দিকে তাকাতে শেখায়। সেই কারণেই এই লেখা শুধু অতীতের দলিল নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।