নবীদের স্ত্রী এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন
বাংলা ভাষায় নবীদের জীবনী নিয়ে অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তবে তাদের স্ত্রীদের নিয়ে স্বতন্ত্র বই নেই বললেই চলে। অসংখ্য নবী-রাসূলদের মধ্যে পবিত্র কুরআনে মাত্র ২৫ জন নবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার তাদের সবার স্ত্রীদের কথা আলোচিত হয়নি। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ কুরআনে বর্ণিত নবীদের স্ত্রীদের জীবনী-ই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে। সঠিক ও বিশ^স্ত সূত্রের আলোকে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ব্যাপারে যে রকম বিস্তারিত জানা যায়, অন্যান্য নবীদের স্ত্রীদের বেলায় সে রকম জানা যায় না। সংগত কারণেই তাদের সম্পর্কে ইসরায়েলী রেওয়াতেসহ অনেক মনগড়া গাল-গল্প মুসলিম বিশ^ ছড়িয়ে পড়েছে। লেখক এখানে সেসব গল্পের অসারতা তুলে ধরেছেন, চিহ্নিত করেছেন। ফলে গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও এখানে বর্ণিত তথ্য ও ঘটনাসমূহের মাধ্যমে নবীদের স্ত্রী সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হবে। কার্যত গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় ইসলামী ইতিহাসে একটি নতুন সংযোজন, যা পাঠকদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করবে বলে আমরা আশা করি।
মহীয়সী নারী সাহাবাীদের আলোকিত জীবন
আধুনিক জীবন-যাপন প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক সহজসাধ্য হলেও মানবিক চরিত্র উন্নয়নের ব্যাপারটি সে তুলনায় আগে বাড়তে পারেনি। ইসলামী মূল্যবোধ ছাড়া এটি অর্জনও সম্ভব নয়। বাস্তবিক অর্থে এখন যারা সমাজে ‘আইডল’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তারা পাশ্চাত্যেরই সৃষ্টি—যা ইসলামী মূল্যবোধ ও বিশ্বাসকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে। মর্ডানিজমের যাতাকলে মুসলিম সমাজও এ ধ্বংসযজ্ঞের ইন্ধন যোগাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়—ইসলামের প্রথম যুগের সাহাবায়ে কেরামকে ‘আইডল’ হিসেবে গ্রহণ করা। এটি পুরুষ ও নারী—উভয়েরই জন্যই জরুরী। তবে নারীজাতির বর্তমান দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করে আরববিশ্বের খ্যাতিমান লেখক শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী সঙ্কলন করেছেন রাসূল সা.-এর নিকটতম ৩৩ জন নারী সাহাবীর অনবদ্য জীবনী। এ গ্রন্থটি তারই সাহাবিয়্যাত হাওলার রাসূল-এর অনূদিত রূপ মহীয়সী নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন। তথ্যসমৃদ্ধ ও সহজবোধ্য ভাষায় অনুবাদকৃত এ কিতাবটি এদেশের মুসলমানদের জন্য ইসলামের পথে আরও অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে এক অনবদ্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
নারী তাবেয়ীদের আলোকিত জীবন
সাহাবীগণের আদর্শিক আলোচনা অনেক সময় আমরা এই অজুহাতে পাশ কেটে যাই, তাঁরা রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছেন, আমরা দেখিনি। কিন্তু তাবিয়ীগণ? তারা তো আমার আপনার মতোই নবীজিকে না দেখে ঈমান এনেছেন। তা সত্ত্বেও তাদের জীবনাদর্শের দিকে তাকান; দেখবেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটুকুই আলোকিত। নবীজির শিক্ষা সাহাবীগণের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরবর্তীকালের অনাগত মুসলিমদের কাছে তারাই পৌঁছে দিয়েছেন। পুরুষ তাবিয়ীগণের পাশাপাশি তৎকালীন মহীয়সী নারীরাও ইলম, আমল ও সমরাঙ্গনে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে গেছেন।
এই মহীয়সী তাবেয়ীদের জীবনী অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও মনোমুগ্ধকর-ভাবে লিখেছেন আরবের সুপরিচিত লেখক আহমাদ খলীল জুমআ। ‘নারী তাবিয়ীদের আলোকিত জীবন’ গ্রন্থে তিনি তুলে এনেছেন ২৫ জন মহীয়সী নারী তাবেয়ীর আলোকিত জীবন। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদান, তাদের ঈমানদীপ্ত জীবনাচার সহ অনেক কিছুই জানা যাবে এই বই থেকে।