ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে একসময়ে ছিল মানিকনগর স্টিমার ঘাট। স্টিমার ঘাটের পর নদীর পাড়েই নাসিরাবাদ গ্রাম। তারপর শাহবাজপুর গ্রাম। বাংলার অনেক গ্রামের মতোই একটি গ্রাম, গাছগাছালিতে ভরা। শাহবাজপুরের নামটি থেকেই মনে হয় গ্রামটি মুসলমানপ্রধান। তবে একসময়ে এ গ্রামে প্রাচীন ভূস্বামী ভাটদের সমৃদ্ধ বসতি ছিল এবং হঠাৎ করেই ভাটদের অন্তর্ধানের রহস্য জানা যায় নি। গ্রামের বয়স্কদের ধারণা ভাটরা মোগল আমলে শাহবাজপুরে এসেছিল এবং অনেক দিন ধরে এখানে বসতি গড়ে তুলেছিল।
সম্ভবত ইংরেজ আমলেই পারিবারিক কোনো দুর্ঘটনার কারণে এরা রাতারাতি গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। কোথায় চলে যায় তা আর জানা যায় নি। ওদের ভাঙা দালানের ইট পরীক্ষা করে দেখা গেছে ওগুলো চ্যাপ্টা, পাতলা, অপেক্ষাকৃত ছোট, চৌকো আকারের এবং খুবই শক্ত। আদি বাংলা নিয়ে ভাবিত আহমদ রফিকের এগুলো নজরে পড়ে এবং নমুনা হিসেবে কয়েকটা ইট তাঁর গোপিবাগের বাসায় রেখে দেন এগুলোর বয়স বিচারের কথা ভেবে। আদি বাংলা ও আদি বাঙালি নিয়ে তাঁর আগ্রহ এখনো যথেষ্ট।