ঈমানের অপরিহার্য পাঠ
বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৮৪। অধ্যায় ১১ টি।
ঈমান আমাদের অস্তিত্বের শেকড়। দিকচিহ্নহীন প্রান্তরে বাতিঘর দেখে নাবিক যেভাবে গন্তব্য খুঁজে পায়, তেমনই ঈমানের আলো আমাদেরকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাই, আমাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই, ঈমানের পরিচয় ও গুরুত্ব জানা আবশ্যক।
এই বই আপনাকে জানাবে—ঈমানের পরিচয়, ঈমানের রোকনসমূহের ব্যাখ্যা, তাওহীদের বিবরণ, শির্কের ভয়াবহতা এবং আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর পরিচয় ইত্যাদি। এছাড়া পরকালীন জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আঁকার চেষ্টা করা হয়েছে এই বইয়ে। সেই সাথে ঈমানের মৌলিক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি কুরআন ও হাদীসের আলোকে ঈমান পরিপন্থী নিত্য-নতুন কুফর ও নিফাকের লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
বইটিতে ঈমানের শাখা-প্রশাখা, আল্লাহর নিরানব্বই নাম এবং আধুনিক যুগের নিত্য-নতুন কুফরের আলোকে ঈমান ভঙ্গের কারণ বিষয়ে মৌলিক কাজ করা হয়েছে। সেই সাথে সময়ের সংশয় ও সংকটকে সামনে রেখে ঈমানের প্রয়োজনীয়তা ও সুফলের ওপর বর্ণনার আলো ফেলা হয়েছে।
ঈমান কীভাবে মানুষের পরিচয় নির্মাণ করে, অশান্ত হৃদয়ে প্রশান্তি দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য তৈরি করে—বইটির পাঠ আপনাকে সেই উপলব্ধির সামনেও দাঁড় করাবে। অস্থির সময়ে যিনি জীবনের অর্থ খুঁজছেন, সংশয়ের অন্ধকারের মাঝে খুঁজে ফিরছেন আলোর মঞ্জিল, তার জন্য এই বই একটি নতুন যাত্রার সূচনা।
আজি হতে হাজার বছর আগে
গল্পটা হাজার বছর আগের কোনো এক সন্ধ্যার। পৃথিবীতে ঝেঁকে অন্ধকার নেমে এলে, কেউ যেন পরম মমতায় জ্বালিয়ে দিলো ঘরের কুপিবাতিটি। সেই সন্ধ্যায় শুধু ঘরের কোণের কুপিবাতিই জ্বলল না, এক চপল কিশোরের মনের কোণেও টিমটিম করে জ্বলে উঠেছিল একটুকরো জিজ্ঞাসা।
সেই জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে সেই চপল কিশোরকে হাঁটতে হয়েছিল যুগের পর যুগ। দিন-রাত একাকার করে, পথের পর পথ, প্রান্তরের পর প্রান্তর তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল একাকী। শরীরে নেমেছিল অবসাদ, গা জুড়ে নেমেছিল পথের ক্লান্তি। কিন্তু সেই একটুকরো জিজ্ঞাসার অবদমিত আহ্বান তাকে কোথাও থামতে দিলো না।
ধু-ধু মরুভূমির পথ, ধুলোয় আচ্ছন্ন শহর, কখনো-বা নিষ্প্রভ নক্ষত্রের মিটিমিটি আলোতে খুঁজে বেড়াতে হয়েছিল সেই জিজ্ঞাসার সন্ধান। কালের ধুলো অতিক্রম হয়, বয়েসি বটের শেকড়ে নেমে আসে জীর্ণতার চিহ্ন। কিন্তু সেই পথিকের পথ যেন ফুরোতে চাইল না আর।
তারপর, শতাব্দী পার হলো। দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেল সভ্যতার পর সভ্যতা, শহরের পর শহর। কোনো কোনো দিকে গড়ে উঠল নতুন নগর, নতুন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু পৃথিবীরই এক প্রান্তরে, জীর্ণ শরীর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক শতাব্দী প্রাচীন পথিক—এক পরমের সন্ধানে।
এই উপাখ্যান সেই পথিকের জীবনকে ঘিরে। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসার সেই উত্তর কি মিলেছিল? পথিক কি পৌঁছাতে পেরেছিল তার আরাধ্য জীবনের সমাপ্তিতে?
টান টান উত্তেজনার এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানে পাঠক নিজেই খুঁজে নিক সেই উত্তর…