গত শতাব্দীর নয়ের দশকের শেষার্ধে একেবারেই ভিন্ন ধরণের সাক্ষাৎকারের একটা প্রবণতার সূচনা হয়। কিরিচ দেয়া কেতাবী প্রশ্ন-উত্তরের বাইরে গিয়ে কবি সাজ্জাদ শরীফ কবি ব্রাত্য রাইসু এবং আমি- বলতে গেলে এই তিনজনই ছিলাম ঐ প্রবণতার চর্চাকারী। সাক্ষাৎকার নেয়াটা আমাদের কাছে প্রায় নেশার মতো হয়ে দাড়িয়েছিল। ওই সময়টাকে বলা যেতে পারে সাক্ষাৎকারের বুম (Boom) পিরিয়ড। বুম কেবল প্রাচুর্য্যের কারণেই নয়, একই সাথে তা প্রথাবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্যেও। সাক্ষাৎকার, এর আগে বা পরেও, ঐ প্রাণশক্তি আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জেগে উঠতে পারেনি।
যে-আবেগ ও অন্তর্গত প্রণোদনা আমাদেরকে চালিত করেছিলো তা-ই হয়তো প্রধান নিয়মক হিসেবে কাজ করেছিলো। এখানও মনে পড়ে, কোন কিছু করার না-থাকলে প্রায় অবধারিতভাবে যে কাজটা প্রথমই আমাদের মাথায় আসতো তাহলো, 'চলেন, এই সপ্তায় ওমুকের সাক্ষাৎকার নেই।'- ব্যাপারটা অনেকটা এরকমই ছিল। এর সঙ্গে পরে যুক্ত হয়েছিল পেশাগত প্রণোদনা। বাংলাবাজার পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, রাইসু এবং আমাকে পরামর্শ দিলেন সাক্ষাৎকার নামে একটা বিভাগ চালু করতে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি কাজ হবে জেনেও তাতে রাজি হয়ে গেলাম। এর ফলে, এতদিন যা ছিলো নেশা, এখন তা একেবারে পেশাগত নেশা হয়ে দাড়ালো।