প্রথমেই বলে নিতে হয়,আল্লাহর অস্তিত্ব কোনাে বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে বিশ্লেষণ সাপেক্ষ বিষয় নয়। উপলব্ধি ও অনুভূতির আলােকে বিষয়টিকে বিশ্বাস্য করে তুলে ধরাই এ গ্রন্থের প্রধান উদ্দেশ্য। এ কাজে প্রধান এবং প্রথম প্রমাণ হচ্ছে পবিত্র কোরআন। যদি বলা হয়,এ গ্রন্থখানি কোনাে মানুষের রচিত নয়,কোনাে অলৌকিক প্রত্যাদেশে অলৌকিক বাহকের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর কাছে প্রেরিত হয়েছে,তা হলে আর কোনাে কথাই নেই। কিন্তু যদি বলা হয়,মুহাম্মদ নামে ব্যক্তি তাঁর যশ,খ্যাতি ও অমরত্বের বাসনায় নিজেই গ্রন্থখানি রচনা করে নিজেকে নবী বলে প্রচার করেছেন,তা হলে কথা আছে। তা এক কথা নয়,অনেক কথা। আর সেই কথাগুলাে নিয়েই গ্রন্থখানি রচনা। তা হলে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে সেই কথাগুলাে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাক । এখানে পাঠককে একটু ধৈর্যধারণের জন্য অনুরােধ করবাে এ জন্য যে,প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে আলােচনায় না গিয়ে আমরা প্রথমে আলােচনা করবাে যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না,তাদের এই অবিশ্বাসের কারণ নিয়ে। তারপর আমরা মূল আলােচনায় প্রবেশ করবাে। এ আলােচনা পাঠকের সুবিধার্থে দুটি খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম খণ্ডে রাখা হয়েছে কিছু তাত্ত্বিক আলােচনা,দ্বিতীয় খণ্ডে এসেছে হযরত মুহাম্মদ সাঃ -এর ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ কিছু ঘটনা এবং পবিত্র কোরআনের এমন কিছু আয়াত,যাকে রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর রচিত বলে মন্তব্য করার সামান্যতম কোনাে সুযােগ নেই। এবার আমরা গ্রন্থখানির মূল বিষয়ে প্রবেশ করবাে।