কুমিল্লা–লাকসামের এক ছায়াশীতল জনপদ প্রেমনল—
আজ সেখানে নীরবতার মধ্যে শুয়ে আছেন এক জীবন্ত ইতিহাস।
যার নাম উচ্চারণ করলে আজও কুমিল্লা–ফেনীর মাদরাসা অঙ্গনে শ্রদ্ধায় নত হয় অগণিত শির।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আলেম সমাজের অন্যতম রাহবার—
ইলম, তাকওয়া ও দায়বদ্ধ দাওয়াতের এক অনন্য প্রতীক।
অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের জন্য ছিলেন নীরব কিন্তু দীপ্ত আলোকবর্তিকা।
হাজারো আলেমের তিনি ছিলেন রাহনুমা।
অগণিত ছাত্রের কাছে ছিলেন আশ্রয় ও আশ্বাস।
কুমিল্লা ও ফেনীর অসংখ্য জনপদে সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন
বিশ্বাসের ঠিকানা, দরদী পথপ্রদর্শক ও আশ্রয়স্থল।
দিনের বেলায় চলত তাঁর হাদিস ও ফিকহের দরস—
গভীর প্রস্তুতি, নির্ভুল দলিল আর হৃদয়স্পর্শী ব্যাখ্যায়।
শর্শদি দারুল উলূমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
তিনি গড়ে তুলেছেন এক প্রজন্ম আলেম—
যাদের কণ্ঠে আজও প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর শিক্ষা ও তাকওয়ার ছাপ।
আর রাত নামলেই—
তিনি হয়ে উঠতেন এক নিঃশব্দ মুসাফির।
গাঁও থেকে গঞ্জে,
মসজিদ থেকে মসজিদে,
এক জেলা থেকে আরেক জেলায়,
শহর থেকে অজপাড়াগাঁয়ে—
ছুটে যেতেন কেবল দাওয়াতের তাগিদে।
তাঁর হাতে কেচ্ছার ঝুলি ছিল না,
গলায় সুরের ঝঙ্কার ছিল না।
ছিল না কোনো লোক দেখানো বক্তৃতা।
তবুও—
গায়েবি অশ্বারোহীর মতো তিনি ছুটে চলতেন,
হৃদয়ে উম্মাহর দরদ আর চোখে বুকভেজানো পানি নিয়ে।
তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত আল্লাহর কালাম আর হাদিয়ে নববির ব্যাখ্যায় মানুষের হৃদয়ের দহলিজ হয়ে উঠত ঈমান, তাকওয়া আর আত্মশুদ্ধির আলোয় ‘মালামাল’।
তিনি শুধু একজন বক্তা ছিলেন না,
ছিলেন একজন নির্মাতা—
মানুষ গড়ার কারিগর,
চরিত্র গঠনের নিঃশব্দ মুজাহিদ।
তিনি ছিলেন
শায়খুল হাদিস,
ফেনী শর্শদি দারুল উলূমের সাবেক প্রধান মুফতি,
লাকসামের হুযুর—
আল্লামা মুফতী আবদুল আজিজ (রহ.)।