তখন বর্ষাকাল। বিলের ধারের ডোবাটা নতুন পানিতে টইটুম্বুর। সেই ডোবায় বাস করত এক কোলাব্যাঙ পরিবার। প্রতিবেশি কাঁকড়া, কচ্ছপ আর নানা প্রজাতির মাছের সাথে তারা বেশ ফুর্তিতেই বসবাস করত। কিন্তু বাদ সাধল এক উটকো আপদ। ডোবার পাশের কড়ইগাছটাতে বাসা বাঁধল এক দানবাকৃতির সারস। লম্বা লম্বা ঠ্যাঙ। বিশাল লম্বা গলা। ধারাল ঠোঁট। ভয়ংকর তার থাবা। চোখের পলকে যেকোনো মাছ পেটে চালান করতে তার জুড়ি মেলা ভার। এমনকি বাদ পরত না ব্যাঙ বা কাঁকড়ার ছোট বাচ্চা। ডোবাজুড়ে আতঙ্ক। নিরীহ পরিবারগুলোতে নেমে এলো শোকের ছায়া।
তাই জরুরি সভা ডাকা হলো বড় ঝোপটার আড়ালে। ব্যাঙ, কচ্ছপ, কাঁকড়ার সাথে সভায় যোগ দিলো কৈ, পুটি, শিং, খলসে, ট্যাংরা, চিংড়িসহ অন্যান্য মাছেরা। সভার বিষয়বস্তু হলো ভয়ঙ্কর সারসের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা।
নাহ, এভাবে আর কত সহ্য করব! নিরীহ মাছেরা আর কত তার খাবারে পরিণত হব? আক্ষেপ করে বলে উঠল ট্যাংরামাছ।
পুঁটিমাছ মাছ বলল, এভাবে চলতে থাকলে পুরো ডোবা খালি হতে বেশি সময় লাগবে না।
শিংমাছ বলল, সুযোগ পেলে আমি ব্যাটাকে দিতাম কাঁটা ফুটিয়ে।
আমার হাত নিশপিশ করে ব্যাটাকে খামচি দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাকে দেখলেই তো ভয়ে গলা শুকিয়ে যায়। আত্মা কেঁপে ওঠে। রাগে গজ গজ করে বলল কাঁকড়া।
তুমি সবার চেয়ে মুরুব্বি। তোমার বাপু অভিজ্ঞতা সবার চেয়ে বেশি। তুমি বলো কী করা যায় এই দুষ্ট সারসের হাত থেকে রেহাই পেতে। কোলাব্যাঙের কাছে জানতে চাইল কচ্ছপ।