“আমার কর্ম আমার জীবন” বইটির সম্পর্কে কিছু কথা: বদলে যাচ্ছে যেন সবকিছু আমি দেখছি অবাক বিস্ময়ে আকাশ-মাটি,মানুষ বদলে যাচ্ছে; প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ স্পর্শেও বদলের হাওয়া,পরিবর্তনের সুর। ঋতুর চরিত্রগুলােও যেন তাদের পরিচ্ছদগুলাের ব্যবচ্ছেদ ঘটিয়েছে,শ্রাবণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বর্ষাকে অঝােরে ঝরায় শরৎ অকালে ভাসায় শহর-নগর,বন্দর-গাঁও বিস্তীর্ণ জনপদ হাবুডুবু খায় দুর্ভোগের সীমানা পেরিয়ে। আমার পারিপার্শ্বিক রূপ দেখে। আমি আঁতকে উঠি,বন্ধুকে চিনতে ভুল করি,রূপ বদলের আতঙ্কে থাকি। মানুষের মানবিকতা বােধের নির্মম অবক্ষয়ের মতাে প্রকৃতির রূপের বিবর্তন দেখতে চাই নাসান্তনা পেতে চাই প্রকৃতিকে দেখে । পাখিরা পৃথিবীর সব প্রান্তে বসে গাইবে একই সুরে গান,ফুল ফুটবে একই গন্ধ রূপ আর রঙ নিয়ে নদী ছুটবে পাহাড় থেকে সাগরে বসন্ত তার আপন মহিমায়। আবির্ভূত হবে শীতের আবরণ ছেড়ে! কোথায় মানুষের সেই সহমর্মিতা বােধ,একে অপরের আপন হবার বাসনা কেন বিবর্ণ হয়ে যায়? ভালােবাসা ভুল হয়,প্রেমের পরিণতি কেন যুবতীর এসিডে ঝলসানাে মুখ? রাজনীতিতে কেন প্রতিহিংসার অনুপ্রবেশ! এক মানুষের অলক্ষ্যে কেন। লুকিয়ে থাকে প্রাণ-লােভী আর এক মানুষ রূপের হায়েনা! নিরপরাধ মানুষের বুক কেন ঝাঁঝরা হয়ে যায় ঘাতকের বুলেটে,বােমায় গ্রেনেডে! মানুষ কেন টুকরাে টুকরাে হয়? [‘আশায় বুক বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে]।