মৃত্যুর হিমশীতল আবহাওয়া এতক্ষণে নিশ্চুপ বাড়িটার ওপরে নেমে এসেছে। কান্নাক্লান্ত মানুষগুলোর চোখে ঘুম ঠিক আসেনি, শুধু শোকের প্রচণ্ডতা সকলের দেহ-মনে একটা ঝিমুনিভাব এনে দিয়েছে। বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েগুলো বিভ্রান্ত উপলব্ধি নিয়ে আজ যেন অকস্মাৎ খুব শান্তশিষ্ট হয়ে গেছে। যে যেখানে জায়গা পেয়েছে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। বালিশ বিছানা নিয়ে খুনসুটি করেনি, খাবার খেতে বসে আজ কেউ বায়না ধরেনি। কে যেন অদৃশ্য তর্জনীর ইশারায় আজ ওদের সব দৌরাত্ম্য থামিয়ে দিয়েছে। ও ঘরটা শূন্য। কতদিন তো জুলফিকার সাহেব বিকেল বেলাতে বেড়িয়ে সন্ধ্যে পার করে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু সেসব দিনগুলোতে ও ঘরের শূন্যতা এমন প্রচণ্ড বেদনাবহ হয় না।