ছোট বেলায় মায়ের মুখে শুনতাম আসামে গেলে আর কেউ ফিরে আসে না। এ দেশের তৎকালীন নিম্নবিত্ত মানুষ ভাগ্যের অন্বেষণে কলকাতায় পাড়ি জমাতো। অনেকে আবার যেতো আসামে। কলকাতার তুলনায় আসাম অনুন্নত ছিল বলে সেখানে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভাগ্য ফিরাতো। ঊনবিংশ শতাব্দী অথবা তারও আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া। অনেক পেশাজীবী আসামে গিয়ে দু' পয়সা কামিয়ে ঢাকায় বাড়িঘর, বিষয়-সম্পত্তি করে জীবনে স্বচ্ছলতা আনতো। অনেকে সংসার এখানে রেখেই আসামে কাজ করতো।
তারমধ্যে অনেকে আর ফিরে আসতো না। তবে আমার শৈশবকালে ওরকম কথা শুনে আমি ভীষণ ভয় পেতাম। মায়ের বলা রাক্ষসের কাহিনী শুনে যেমন লাগতো। স্কুলে বন্ধুরাও বলতো- মানুষ আসামে গিয়ে আর আসে না। কারণও বলতো। সেখানে কামরূপ ও কামাক্ষা নামক স্থানে বড় বড় সাধু-সন্ন্যাসীরা জাদুবলে এদেশের মানুষকে বন্দী করে রাখতো। আমার শিশু মনে বিষয়টি খুব নাড়া দিতো। পরবর্তীকালে বড় হয়ে ঐ কারণটি উদঘাটিত করতে পেরে হেসেছিলাম। কারণটাও ছিল মজার।