মরার আগে মানুষের হেলুসিনেশন হয়। গোটা জীবন সে কী করেছে, কী করেনি, কী করতে পারত, সব দেখতে পারে। সুনীলের এখন সেরকম কিছু একটা হচ্ছে না। অদ্ভুত কিছু দেখছে সে। সে দেখছে, তার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মানুষটা হুট করে সামনে এসে দাঁড়ালো। পরনে নীল রঙের একটা নাইটি, অর্ধনগ্ন। আঁকাবাঁকা আকর্ষণীয় শরীরের গড়ন। যে কোনো পুরুষের চোখ, মুখ, সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মুখিয়ে উঠবে এমন শরীর সামনে আসলে। সুনীল এই উদ্ভট হেলুসিনেশন থেকে বের হতে চাচ্ছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পারছে না এমন রঙিন হেলুসিনেশনের সাথে। কোমরে হাত, ঠোঁটের উপর দাঁত কামড়ে বেশ্যাদের মতো আদর ভঙ্গিতে মানুষটা বলছে-
‘সুনীল, কাছে আসো, আরও কাছে! আরও কাছে!’
সুনীল আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে তার দিকে। লাল লিপস্টিকে ঠাসা কড়া ঠোঁট আর জিহবা সাপের মতো লিকলিকিয়ে আসছে সুনীলের দিকে। সুনীলের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। উত্তাল হচ্ছে তার শরীর। সুনীলের শরীরের সব বিষ আজ বের করে নেবে সেই সাপ। পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন তার শরীরে ওঠানামা করছে। হেলুসিনেশনে উত্তপ্ত শরীর নিয়ে সুনীল কখন যে বারুতা নদীর ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে পরেছে, বুঝে উঠতে পারেনি। পৃথিবী ত্যাগ করার আগে মানুষের সবচেয়ে বড় চাহিদা হয়- তার ভালোবাসার মানুষ যেন যে কোনো রূপেই তার সামনে থাকে। হোক সেটা নীল রঙের নাইটি অথবা ভেজা দুটি চোখ। এসব ভাবার সময় নেই সুনীলের কাছে। বাঁচতে হবে তাকে। জীবনের সর্বোচ্চ সাহস পুঁজি করে সুনীল ঝাঁপ দিলো ব্রিজের উপর থেকে।