১৮৫৪ সালে বাংলা বিহার ও আসাম নিয়ে গঠিত হয় বাংলার প্রেসিডেন্সি। ১৮৬৬ সালে উড়িষ্যায় দুর্ভিক্ষ হয়। এই দুর্ভিক্ষের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি এই মর্মে রিপোর্ট প্রদান করে যে, বাংলার বিশাল সীমানা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে দুর্ভিক্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিটি বাংলার বিদ্রোহ সম্পর্কেও কতকগুলো সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বাংলা ভাষাভাষি অঞ্চল সিলেট, গোয়ালাপাড়া, কাছাড় প্রভৃতি অঞ্চলকে কেটে আসামের অঙ্গীভূত করে তা একজন কমিশনারের অধীনে দেয়া হয়। সেই ছিল বঙ্গভবনের প্রথম সূত্রপাত। বাংলা থেকে আসামকে বিচ্ছিন্ন করা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান হলো না। উনিশ শতকের শেষের দিকে চট্টগ্রাম বিভাগকে বাংলার প্রেসিডেন্সির সঙ্গে রাখা হবে, না আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। ১৮৯৮ সনে লর্ড কার্জন ভারতে বড়লাট নিযুক্ত হয়ে আসেন। এদেশে আসার পূর্বে তিনি ভারত উপমহাদেশ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা নিয়ে আসেন। কার্জনের শাসনামলের সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত বিষয় ছিল বঙ্গভঙ্গ বা বাংলা বিভাগ। যেটা ছিল বাঙালিদের বিভক্ত করার অপচেষ্টা।