বাংলাদেশের উদ্ভিদজগতে প্রায় ৬ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ উদ্ভিদ কম চোখে পড়ে। সচরাচর যেসব উদ্ভিদ দেখা যায় সেগুলোকে সুলভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যেগুলো নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই। শঙ্কা হলো বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো নিয়ে যেগুলো আসলে দুর্লভ। আইইউসিএন ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ১০০০ উদ্ভিদ প্রজাতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে ৩৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদকে কম-বেশি বিপন্ন হিসেবে তালিকাভূক্ত করেছে। বাকি ৫০০০ হাজার প্রজাতি মূল্যায়িত হলে এ সংখ্যা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি হবে। যে কোনো দেশে জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্ভিদবৈচিত্র্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। কেননা একেক জীব একেক উদ্ভিদ প্রজাতির ওপর নির্ভরশীল। তাই কোনো উদ্ভিদ প্রজাতি পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া মানে সেসব জীবও হারিয়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হওয়া।
মৃত্যুঞ্জয় রায় দীর্ঘদিন ধরে গাছপালা নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন। সেসব লেখাগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে কিছু দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদকে এ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি উদ্ভিদের বর্ণনায় উঠে এসেছে দেখা থেকে লেখা এবং অভিজ্ঞতা, সাথে রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা, সেসব গাছের বর্তমান অবস্থান, অবস্থা ও চিত্র। বইটি উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাশা, প্রকৃতিবিদেরা এ বইয়ের দুর্লভ উদ্ভিদগুলোকে সুলভ করার প্রয়াস করবেন।