তাকিয়ে দেখলে কোনো পার্থক্যই চোখে পড়ে না। একই রকম আল-বাঁধা অসম আয়তনের জমি,মাঠের বুক চিরে কোনাকুনি পায়ে চলা পথ,এখানে-ওখানে দু’একটা গাছ মাঠের প্রান্তে কয়েকটা কুঁড়ে ঘর। দিনের বেলা এখানে গরু চরে কৃষাণ মাঠে কাজ করে,বাড়ির চারপাশে ছোট ছোট ছেলে-পিলেরা খেলা করে। এখন মাঝরাতে সব নিঝুম। তবু এ মাঠ পার হতে আসেমের সারা শরীর শিরশির করে ওঠে। এতক্ষণ সে ছিল ভিন দেশে। এখন পা দিল নিজ বাসভূমে। তার মাতৃভূমি এখন শত্রু অধ্যুষিত। আসেমের গলা চিরে শিস বেরোল ‘ও আমার দেশের মাটি,তোমার পরে ঠেকাই মাথা।’ শিসটা হঠাৎ থেমে গেল। বুকের ভেতর থেকে রুদ্ধ আবেগ দলা পাকিয়ে উঠে গলার কাছে আটকে গেছে। রকিবের কাছে আবেগটা প্রকাশ করতে যেন লজ্জায় লাল,তাই হঠাৎ ‘উঃ রে! পায়ে কিসে ঠোক্কর খেলাম।’ বলে মাটিতে ধম করে বসে পড়ল। বুটের আগাটা ধরবার ছলে মুঠো করে চেপে ধরল মাঠের বৃষ্টিভেজা একমুঠো মাটি। রাকিবও বসে পড়ল পাশে। তার অত লজ্জা শরমের বালাই নেই। সে মাঠের ওপর উপুর হয়ে পড়ে হাউহাউ করে কেঁদে উঠল।