বাংলা গানের ধারাবাহিক ইতিহাস এবং তার নানা ওঠাপড়া লক্ষ করলে তার নিজস্বতা ধরা পড়ে। আমরা জেনেছিযে নানারকম শিল্পকলার ও সাহিত্য-মাধ্যমের চর্চা বাঙালি করে চলেছে কয়েক শতাব্দি, কিন্তু গান রচনাতেই সম্ভবত বাঙালির প্রতিভা সবচেয়ে সহজভাবে এবং শিল্পগত সিদ্ধতায় প্রকাশিত হয়েছে। দশম শতাব্দি নাগাদ বাংলা ভাষার সূচনা হয়েছে, এই কথা তথ্যগতভাবে যদি মেনে নেওয়া যায়, তবে একথাও মানতে হবে যে দশম থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত আটশো বছর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আসলে গানেরই ইতিহাস।
চর্যাগান, শ্রিকৃষ্ণকির্তনের গান, জয়দেবের কোমলকান্ত পদাবলি, চন্ডিদাস-বিদ্যাপতির ভাবময় গিতি, চৈতন্যোত্তর মহাজন পদাবলি, নাথযোগিদের গান, রামপ্রসাদ প্রভৃতির শ্যামাবিষয়ক গান ও কালিকির্তন এবং বাউল-ভাটিয়ালি-মুরশিদা ইত্যাদি লোকায়তবর্গের গান-এইসবই বাংলা গানের আদি বৃত্তান্তের অংশ। আঠারো-উনিশ শতকের সন্ধিকালে অর্থাৎ অনাধুনিক ও আধুনিক সময়ের মোহনায় ভেসে উঠেছিল ক্ষণিকের জন্য-কবিগান, আখড়াই, হাফআখড়াই, পাঁচালি ইত্যাদি তৎকালিন লোকচিত্তজয়ি নানা গানের ধরন।