১৯২০ সাল। ১৭ মার্চ। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আটটা। তদানীন্তন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ বাড়িতে শোনা গেল একটি নবাগত শিশুর আগমনী চিৎকার। সেই চিৎকারধ্বনি মধুমতী নদী থেকে সৃষ্ট বাইগার শাখা-নদী তীরে অবস্থিত টুঙ্গীপাড়া গাঁয়ের রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
তখন বাংলার জমিনে বৈচিত্র্যময় ঋতুচক্রের আবর্তে ফাগুন বিদায়ে চৈত্রের খর- তাপ দাহের সময়ক্ষণে নবাগত শিশুটির আগমনী চিৎকার সমস্ত শেখ বাড়ির বাসিন্দাদের কানে যেন তীব্র থেকে তীব্রতর পতিত বজ্রধ্বনির মতো প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়। আচমকা ঘুম থেকে জেগে উঠে সবাই জানতে পারে, তাদের বংশে এক নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে বিবি সায়েরা খাতুনের কোলে। কিন্তু কে জানত এই শিশুটিই বড় হয়ে পরাধীন বাঙালির মুক্তি ঘটাবে?
কে জানত এ চিৎকারধ্বনি একদিন বজ্রধ্বনিতে পরিণত হয়ে জানাবে মুক্তির আহ্বান? এই শিশুটিই একদিন দুঃখী বাঙালির মনে আগুন জ্বালিয়ে দীপ্ত তেজে বলে উঠবে, জাগো এবার আমাদের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।