১৯১০ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল আমার জীবনের ক্রান্তিকাল। মেফিস্টোফেলিসের সাথে দেখা হবার পূর্ববর্তী সময় এবং পরবর্তী সময়ের মধ্যে ফাউস্টের জীবনে যে পার্থক্য ছিল আমার জীবনেও ১৯১০ সালের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল অনুরূপ। আমি তখন একটি সঞ্জীবন-কালের (perod of rejuvenation) মধ্য দিয়ে অতিক্রম করি। এর সূচনা করে অটোলীন মরেল এবং যুদ্ধ তা অব্যাহত রাখে। ব্যাপারটা একটু কৌতূহল-উদ্দীপক যে যুদ্ধ একজন মানুষকে নূতন করে জাগিয়ে তোলে।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই যুদ্ধ আমার মন থেকে অনেক ধরনের বিদ্বেষভাব ঝেড়ে দূর করে দেয় এবং অনেক মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে নূতন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে আমার মাঝে নূতন ধরনের এক কর্মতৎপরতা জন্মলাভ করে। গাণিতিক যুক্তিবিদ্যায় মনোনিবেশ করার চেষ্টা করতে গেলেই আমি যেরূপ একটা বাসী-হওয়া ভাব অনুভব করতাম এরূপ কোন অনুভূতি তখন আমার হয় নি। ফলে আমি নিজেকে একজন ফাউস্টের মত অতি-প্রাকৃত কেউ নয় বলে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আমার জন্য মেফিস্টোফেলিস' হয়ে হাজির হয়।