জীবদ্দশায় তাঁরা বলতেন, 'ও কেউ না; কবি নয়, অনুবাদক মাত্র'। তারপর ১৯৬০- এর ৩০শে মে। কোনো সংবাদপত্রে না, বেতারে নয়, কেবল যেন ইতিহাসের সম্মানার্থেই লিটারেরি গেজেটে ক্ষুদ্রতম পরিসরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হল। অথচ ভোর থেকে যত ট্রেন ছুটে এল পেরেদেল্কিনো-তে, বন্ধুদের কল্লোল, অচেনা লোকদের ভিড়, আঞ্চলিক কৃষক-মজুরদের জনতা, বেদনার্ত তরুণদের হৃদয়ের ভার, সব বয়ে আনল তারা।
বাইরের গুমোট আবহাওয়া, ছায়াচ্ছন্ন দিন, হাওয়ার চিৎকার ও বৃক্ষসমূহের গর্জনে হয়তো বিচ্ছেদসংবাদ লিখিত ছিল। গৃহ থেকে গৃহান্তরে, ঝঙ্কৃত টেলিফোনে, মুখ থেকে মুখে শোকসংবাদ ঝড়ের গতিতে সারা দেশকে আক্রমণ করল। একটা গাড়ি ছিল তাঁকে বহন করে নিয়ে যাবার জন্য সমাধিস্থানে, সে-শকট পরিত্যক্ত পড়ে রইল। রিস্টারের আঙুলে তখন শপ্যাঁ-র সিম্ফনি বাজছে, স্তবকের পর স্তবক পুষ্প স্তূপীকৃত হতে লাগল তাঁর মৃতদেহের উপর। তারপর সকলে কাঁধে করে রিক্তচিত্তে তাঁর হাঁ-খোলা কফিন বয়ে নিয়ে গেল,