মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে করা পরীক্ষণগুলোর ওপর ভিত্তি করেই তিনি বক্তৃতা করেন যা ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের চমৎকৃত ও আশ্চর্যান্বিত করে। লিভারপুলে বক্তৃতার পর তার আরও সাফল্য আসে। ১৮৯৮ সালের ১৯ তারিখে তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘অন দ্য পোলারাইজেশন অব ইলেকট্রিক রেইস’ তথা বিদ্যুৎরশ্মির সমাবর্তন। সেই বক্তৃতার সফলতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু যত জায়গায় বক্তৃতা দেন সবখানেই বিশেষ প্রশংসিত হন। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক কর্ন তার বন্ধু হয়ে যায় এবং তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত বিজ্ঞান সমিতি Societe de phyreque-এর সদস্য মনোনীত হন।
জগদীশচন্দ্র বসু তার সামগ্রিক গবেষণাকর্মের জন্য যে সমস্ত সম্মাননা পেয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নাইটহুড (১৯১৬), রয়েল সোসাইটির ফেলো (১৯২০), ভিয়েনা একাডেমি অব সাইন্স-এর সদস্য (১৯২৮), ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস-এর ১৪তম অধিবেশনের সভাপতি (১৯২৭), লিগ অব ন্যাশনস কমিটি ফর ইনটেলেকচুয়াল কো-অপারেশন-এর সদস্য, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অব ইন্ডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা ফেলো। যার বর্তমান নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাইন্স একাডেমি।
জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর গবেষণার ফলে উদ্ভিদবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে তোলে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা করে। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে।