পিয়া এমনভাবে হেঁটে চলে যেন তার সামনে কোনো গন্তব্য নেই, কোনো ঠিকানা নেই। বাবার হাসপাতাল কোথায়, চেনা কোন রাস্তার ধারে একটা কৃষ্ণচূড়ার গাছ ছিল, অনেক ভেবেও সেসবের কিছুই মনে পড়ে না তার। চোখের সামনে থেকে ঢাকা শহরের যানজট, মানুষের কোলাহল সবকিছু কেমন করে যেন উধাও হয়ে গেছে! অথচ তাদের চোখগুলো বোধ হয় তার দিকে সকরুণ তাকিয়ে আছে। তার ক্ষুধার্ত, অপুষ্ট শরীরের বাঁকে বাঁকে অদ্ভুত এক ভয় আর লজ্জা জেগে ওঠে। মানুষের এইসব দৃষ্টি ক্রমশ তার কাছে ঠাট্টা আর বিদ্রুপ বলে মনে হয়। ভাবে, দরিদ্র পরিবারের বড় কন্যা হয়ে জন্মালে এভাবেই বুঝি জীবন তাদের সাথে কথা বলে! তবে কি এরাও তাকে যাকাত দিবে কি না সে কারণেই অমন করে তাকিয়ে থেকে যাচাই করে নিচ্ছে? সে পালাতে চায়। প্রেম নয়, স্বপ্ন নয়, কনে দেখা বিকেলের আলোয় তার দুই চোখে সমান্তরাল এক পথ জেগে ওঠে। যেখানে দুটো পথ কোনো এক ধূসর দিগন্তে মিলিয়ে গেছে। পাশাপাশি দুটি জীবন যেন। একটি স্বপ্ন, অন্যটি প্রত্যাশা। কিন্তু যারা একে অন্যের কাছে কখনোই ধরা দেয় না। পিয়া সত্যি সত্যি যেন এক পথের খোঁজ পায়। জীবনের উদ্দেশ্যের সন্ধান পেয়ে তার ভেতর এক গভীর স্থিরতা নেমে আসে। দিগন্তের দিকে হাঁটতে থাকে সে, যেখানে দুটি সমান্তরাল পথ একসাথে মিলেছে।