‘বীণু বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের আখ্যান চারদশক আগের। প্রেম কাহিনির উপন্যাস হলেও নানান বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাহিনি অগ্রসর হয়েছে। এ প্রতিকূলতা একদিকে নায়িকার পরিবারের অসম্মতি অপরদিকে সে অসম্মতিকে ছাপিয়ে গেছে সে সময়ের রাজনীতির নামের অন্ধকার এক ভয়ংকর গোষ্ঠীর অপতৎপরতা।
বালক বয়সেই উপন্যাসের নায়ক সেই অপতৎপরতার কারণে এতিম হয়। তার জীবন সংগ্রাম থেমে থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে অবশেষে সে তার কাক্সিক্ষত প্রেয়সীকে পায় ঠিকই কিন্তু পাওয়ার আগে মূল্যটা বড় বেশিই দিতে হয়।
এ উপন্যাসে প্রয়োজনমতো কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের এক সময়ের নিষিদ্ধঘোষিত ‘পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’, ‘গণবাহিনী’ এবং সর্বহারা পার্টির ভয়ংকর অপতৎপরতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এসকল নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অপতৎরতার চিত্র এউপন্যাসের লেখক নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। মোটকথা,মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের এক সংকটময় সময়ের কথা, তারই মাঝে,গ্রাম্য সমাজের কথাএমন কি প্রেম-ভালোবাসা মিলিয়েই ‘বীণু বৃত্তান্ত’ উপন্যাস গড়ে উঠেছে।