বাংলাদেশে জনগণের সম্পদ রক্ষার সংগ্রামে আনু মুহাম্মদ অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরােধী লড়াইয়ের এই পুরােধা। মানুষটির চোখে বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবাকে দেখার তাৎপর্য নানা দিক দিয়েই। বিশাল। এই অর্থে আনু মুহাম্মদের এই বইটি নিছক কোন ভ্রমণ কাহিনী নয়,বরং কিউবার বিপ্লবের অর্জনগুলােকে বাংলাদেশের একজন পরিবর্তনাকাঙক্ষী। অর্থনীতিবিদের দিক থেকে বুঝে নেয়ার চেষ্টা যেমন,তেমনি বাকি দুনিয়ার। – সাথে কিউবার তুলনাও বইটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কিউবা গত শতকের মধ্য ভাগ থেকে যে পরীক্ষা নিরীক্ষা আর রূপান্তরের মধ্য। দিয়ে গিয়েছে,তার তুলনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। প্রবল শক্তিধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পেটের ভেতর থেকেও,অজস্র হামলা-হুমকি ও ষড়যন্ত্রের । মুখােমুখি হয়েও জনগণের বিপ্লবকে শুধু টিকিয়ে রাখেনি,শিক্ষা-স্বাস্থ্য-মানব। সম্পদ উন্নয়নে বিশ্বের মাঝে প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। শাসনব্যবস্থায় জনসম্পৃক্ততার,জনগণের অংশগ্রহণের নতুন কাঠামাে হাজির । করেছে কিউবা। কিউবার বিপ্লবের চেতনা কিভাবে ল্যাতিন আমেরিকায় ছড়িয়ে। পড়লাে,কিভাবে কিউবা গােটা পৃথিবীর বিপ্লবের স্বপ্নভূমিতে পরিণত হলাে,তারই একটা অসাধারণ বিবরণ বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা।। কিউবার বিপ্লবের পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা-দারিদ্র-চক্রান্ত। মােকাবেলা করতে হয়েছে কিউবাকে সহ্য করতে হয়েছে সােভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মত বিপর্যয়। ফলে মানব ইতিহাসে এত বড় পরীক্ষা আর কোথাও সম্পন্ন হয়নি। হতাশা-সংশয় আর হাজারাে সীমাবদ্ধতার পরও। কিউবার অভিজ্ঞতার মূল্য অসীম। আনু মুহাম্মদ এর চোখ দিয়ে। কিউবাকে দেখার এই অভিজ্ঞতা সকল পাঠকেরই স্বপ্নকে আরও । ‘ সাহসী করবে,ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।