দ্য পাওয়ার অব জিওগ্রাফি
সাম্রাজ্য গড়ে উঠবে, আবার ভেঙেও পড়বে—এটাই ইতিহাসের নিয়ম। আজকের মিত্রতা যে আগামীকালও টিকে থাকবে, তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপে যে রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা টিকেছিল মাত্র ছয় দশক। নাৎসিদের স্বপ্নের ‘হাজার বছরের রাইখ’ ভেঙে যায় মোটামুটি এক দশকের মধ্যে। ক্ষমতার ভারসাম্য ভবিষ্যতেও বদলাবে।
তবে সেটা ঠিক কীভাবে ঘটবে, এখনই তা নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো যথারীতি বিশ্ব রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং উদীয়মান শক্তি ভারতও পিছিয়ে থাকবে না। এর পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে ছোট দেশগুলোর ভূমিকাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট বা বড় শক্তি—উভয়েরই পারস্পরিক সাহায্য প্রয়োজন।
ছোট দেশগুলোর কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য বড় রাষ্ট্রের সমর্থন যেমন প্রয়োজন, তেমনি বড় শক্তিগুলোরও ছোটদের সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
এই পারস্পরিক নির্ভরতাই তুলনামূলকভাবে ছোট রাষ্ট্র—যেমন তুরস্ক, সৌদি আরব কিংবা যুক্তরাজ্যের—সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তারা এখন চেষ্টা করছে বৃহত্তর বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে। ২০২০-এর দশকের শুরুতে এসে বিশ্ব যেন নতুন এক দাবার বোর্ডে রূপ নিয়েছে। গুটিগুলো সাজানো শেষ—এখন কেবল খেলা শুরুর অপেক্ষা। এই খেলায় টিম মার্শালের সঙ্গে অংশ নিতে চাইলে আপনাকে স্বাগত।
প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি
মানচিত্রে সাথে আমাদের রহস্যময় একটি সম্পর্ক রয়েছে। তা প্রাচীন, ক্ষয়ে যাওয়া মানচিত্র হোক বা গুগল দ্বারা তৈরি ডিজিটাল মানচিত্র—মানচিত্র আমাদের শুধু বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করে না, পুরো পৃথিবী সম্পর্কে জানায়। কিন্তু যখন ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গ আসে, তখন আমাদের এমন সব তথ্য বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের থেকে আসে, যারা কিনা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট স্থানের মানচিত্র সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল নন।
প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি বইটিতে সাংবাদিক টিম মার্শাল দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রতিটি দেশের নেতারা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা রেখে সিদ্ধান্ত নেন। রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া, গ্রীনল্যান্ড এবং আর্কটিক—এসব অঞ্চলের আবহাওয়া, সাগর, পাহাড়, নদী, মরুভূমি ও সীমানা তাদের শক্তি প্রদর্শ, দুর্বলতার অংশ এবং ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা তিনি বিশ্লেষণ করেছেন।
এই বইটি পাঠককে গোটা পৃথিবীর মানচিত্রের একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে। কেন পুতিন ক্রিমিয়ার প্রতি এত আগ্রহী? কেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে সুপারপাওয়ার হয়ে ওঠা পূর্বনির্ধারিত ছিল? কেন চীনা শক্তির ভিত্তি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে? কেন তিব্বত তার স্বায়ত্তশাসন হারাতে বাধ্য? কেন ইউরোপ কখনোই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না? এই প্রশ্নগুলোর অনেক উত্তরই লুকিয়ে আছে ভূগোলে।
মোটকথা প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বই, যা আপনাকে বিশ্ব পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।