বিশ্বাস এবং জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা খুব একটা সহজ ব্যপার নয়; যেমনটা বোধ এবং উপলব্ধির মধ্যে হয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার নতুন কোনো থিয়োরি প্রথমে অনুমানের মধ্যে জন্ম নেয় এবং পরে ক্রমে প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চয়তা লাভ করে, নতুবা বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু বিশ্বাসের বেলায় এটা প্রযোজ্য নয়। 'আমি বিশ্বাস করি' এর অর্থ একটাই- যার কোনো বিকল্প নেই। উদাহরণ ইসলাম ধর্মের প্রধান ভিত্তি ও অস্তিত্ব যার উপরে নির্ভরশীল, সেই কোরান শরীফের প্রথম সূরার প্রথম অধ্যায়ে 'মোমিনের' সংজ্ঞা নির্ধারণে যে পাঁচটি শর্তের উল্লেখ আছে, তার মধ্যে প্রথমটিই হলো, 'অদৃশ্যের উপরে বিশ্বাস করা'। তারপর অন্য চারটি।
এজন্যই বিশ্বাস বজায় রাখা যেমন সহজ তেমনি একে বদলানো খুবই কঠিন। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় যারা একে অপরকে হত্যা পর্যন্ত করতে উদ্যত হয় সেখানে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে 'অন্ধ ও আপোষহীন বিশ্বাস।' এজন্যই অনেক বিশেষজ্ঞ ধর্মকে বিজ্ঞানের সঙ্গে এক ও সাথে আলোচনা করতে নারাজ।