মতি মিয়া দ্রুত পায়ে হাঁটছিল। আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে, যে কোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। সঙ্গে ছাতা ফাতা কিছুই নেই। বৃষ্টি নামলে ভিজে ন্যাতা ন্যাতা হতে হবে।
মতি মিয়া হন হন করে ডিসট্রিক্ট বোর্ডের সড়ক ছেড়ে সোহাগীর পথ ধরল। আর তখনি বড় বড় ফোটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। মতি মিয়ার বিরক্তির সীমা রইল না।
সকাল সকাল বাড়ি ফেরা দরকার—শরিফার পা ফুলে ঢোল হয়েছে।
কাল সারারাত কাউকে ঘুমাতে দেয়নি।
সন্ধ্যার পর আমিন ডাক্তারের এসে দেখে যাবার কথা।
ঢালা বর্ষণ শুরু হলো। জামগাছের ঘন পাতাতেও আর বৃষ্টি আটকাচ্ছে না। সরকারবাড়ির কাছাকাছি আসতেই প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়ল এবং আশ্চর্যভাবে বৃষ্টি থেমে গেল। মতি মিয়া অবাক হয়ে শুনল সরকারবাড়িতে গান হচ্ছে—কানা নিবারণের গলা:
"আগে চলে দাসী বান্দি পিছে ছকিনা, তাহার মুখটি না দেখিলে প্রাণে বাঁচতাম না ও মনা ও মনা ..."
মতি মিয়া ধাক্কা দিতেই নাজিম সরকার মহাবিরক্ত হয়ে দরজা খুললেন। কানা নিবারণ গান থামিয়ে হাসি মুখে বলল, “মতি ভাই না? পেনাম হই। অনেকদিন পরে দেখলাম।”
নাজিম সরকার রাগী গলায় বললেন, “ভিজা কাপড়ে ভিতরে আসলা যে মতি? দেখ ঘরের অবস্থা কি করছ? তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি আর হইল না, ছিঃ ছিঃ।”