বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবে মুকুন্দদাস বিখ্যাত। এসব আন্দোলন সংগঠিত করতে তিনি বেশ কয়েকটি যাত্রাপালা ও বহু গান রচনা করেছিলেন, যা ‘স্বদেশি যাত্রা’ ও ‘স্বদেশি গান’ নামে অভিহিত হয়। এসব যাত্রাপালা ও গানের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে ব্রিটিশ শাসকদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার বাসনা, বাংলাভাষী মানুষের বাঙালি পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা। যাত্রাশিল্পী এবং গায়ক হিসেবে সমকালে তিনি ‘চারণকবি মুকুন্দদাস’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বিশ শতকের জনপ্রিয় দুটি সাংস্কৃতিক উপাদান ‘যাত্রাগান’ ও ‘গণসংগীত’―দুটোরই তিনি অগ্রজন।
মুকুন্দদাস কোথায় কোন পরিবেশে জন্মেছিলেন ও বেড়ে উঠেছিলেন, কোন কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলেন, কী ধরনের পেশায় নিজেকে জড়িত করেছিলেন, তাঁর সৃজনশীলতার ধরন কেমন ছিল, কী কী সাহিত্য রচনা করেছিলেন, তাঁর রচিত গানে ব্রিটিশবিরোধিতার মাত্রা কেমন ছিল, সেসব গান পরিবেশন করতে গিয়ে কীভাবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘকাল কারাভোগ করেছিলেন, সমকালে ও উত্তরকালে তাঁর সম্পর্কে বিজ্ঞজনেরা কী ধারণা পোষণ করেছেন―এমন বহু প্রশ্নের জবাব বইটি থেকে পাওয়া যাবে। এছাড়া মুকুন্দদাসের রচনার কিছু অংশ বইটির ‘রচনা নিদর্শন’ অংশে সংকলন করা হয়েছে। বিশেষভাবে ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করার পর তাঁর ‘পথ’ যাত্রাপালাটি এই গ্রন্থে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হলো, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত কোনো রচনাবলিতে যা পাওয়া যায় না।