বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে একটি অগ্রসরমান দেশ। কিন্তু যে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালনকরে সেটাই আজ অসুস্থ, বিপর্যস্ত ও নানা সমস্যায় জর্জরিত। জাল—জালিয়াতি করে, অস্তিত্বহীন ও ভুয়া কোম্পানি খুলে, অন্যের জমিকে নিজের জমি দেখিয়ে, বন্দকীকৃত সম্পত্তির মূল্য অস্বাবিক অতিরঞ্জন করে, ওভার—ইনভয়েসিং করে, ঋণের কিস্তি বার বার নির্ধারণ করে, ঋণ অবলোপন করে, কর্জ পরিশোধের মামলার জট লাগিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের টাকা দেদারছে আত্মসাৎ তথা লোপাট করা হচ্ছে। এসব কুট—চাল ও অপকৌশলকে রূপক অর্থে “চিচিম ফাঁক” বলা যেতে পারে। আরব্যরজনীর বিখ্যাত “আলিবাবা ও চল্লিশ চোর” গল্পের চোরের সর্দারের জাদু—শব্দ ছিল এটা যা বললেই গোপন ধন—ভান্ডারের দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যেত আর চোরেরাযত পারত, তত লুট করে নিয়ে যেত। আধুনিক কালে চিচিম ফাঁকের অস্তিত্ব না থাকলেও নানা কায়দা—কৌশলে অনেক ঋণগ্রহীতা গল্পের চোরদের মত অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। শয়তানের মস্তিস্ক—প্রসূত কুবুদ্ধি দিয়ে হরেক কায়দায় লুণ্ঠনকারীরা বের করে নিচ্ছে জনগণের গুপ্তধন নামক সঞ্চিত অর্থ; ব্যাংক হারাচ্ছে টাকা; কাদায় আটকে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। গল্পের চোরেরা এত স্মার্ট ছিল না; ওদের এতশিক্ষা—দীক্ষা ছিল না; কোন গোপন কোড জানতো না; কোন ডিভাইস কীভাবে ব্যবহারহবে তা জানতো না। এখনকার চোরেরা তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গোপন কোড জানে, ভিডিও কলে নির্দেশ পাঠায়, আমদানিকৃত পণ্য বা দ্রব্যের অতিরঞ্জিত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে ও করছে। আধুনিক যুগে সঞ্চয়কারীর সঞ্চিত অর্থ ব্যাংকে জমা থাকে। এটাই তার গুপ্তধন। জালিয়াতি করে ব্যাংকে রক্ষিত এ গুপ্তধন হাতিয়ে নিচ্ছে ভেকধারী বিনিয়োগকারীরা, ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়ে ঋণ অবলোপনের সুযোগ নিয়ে জনগণের, রাষ্ট্রের ও আমানতকারীর টাকা মেরে দিচ্ছে।