ব্যবস্থাপনার নীতিমালা — অনার্স প্রথম(১ম) বর্ষ — প্রফেসর এ.কে. চৌধুরী, মোঃ কামরুজ্জামান — ব্যবস্থাপনা বিভাগ — গ্রন্থকুটির — পাঠ্যবই বা মেইনবই — নতুন সিলেবাস
মানব সভ্যতার ক্রমোন্নতির সাথে সাথে ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের উন্নতি শুরু হয়। আর তখন থেকেই ব্যক্তিক নেতৃত্বের প্রসার হতে থাকে। ব্যক্তি নেতৃত্ব থেকেই ব্যবস্থাপনার সৃষ্টি। নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্যবস্থাপনা আজ একটি স্বতন্ত্র নৈপুণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। অবাধ তথ্য প্রবাহ, মুক্তবাজার অর্থনীতি আর বিশ্বায়নের প্রভাবে আধুনিক ব্যাবসাবাণিজ্য এক জটিল রূপ ধারণ করেছে। এর সাথে তাল রেখে ব্যবস্থাপনা একটি আধুনিক গতিশীল সর্বজনীন সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করতে চলেছে। অপরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে ব্যবস্থাপনা। এরূপ সনাতন ধারণা থেকে আজ ব্যবস্থাপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, আরো যুক্ত হয়েছে দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা। সমাজবিজ্ঞানীরা ব্যবস্থাপনাকে একটি সামাজিক পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। আবার আচরণ বিজ্ঞানীরা ব্যবস্থাপনাকে আচরণমূলক জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন। আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞগণ প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত সম্পদের দক্ষ ও ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের কার্যাবলি সম্পাদনকে সামগ্রিকভাবে ব্যবস্থাপনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এসবের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনার গণ্ডি আজ অত্যন্ত ব্যাপক। সকল প্রকার ব্যবসায় তথা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও দক্ষতার সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনার নিত্যনতুন কলাকৌশলের সফল প্রয়োগে আজ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।