একদা রাজারাই চীন দেশটির মালিক ছিল। রাজা কিংবা রাজার বংশধররা দেশটি পর্যায়ক্রমে শাসন করত। এমনি এক শাসক বংশের নাম ছিল ‘ছিন’ রাজবংশ। প্রথমে তারা চীন সাগরের পাড়ে কতক বিচ্ছিন্ন এলাকাকে একত্রিত করে; পরে একটা দেশ বানিয়ে ফেলে। দেশ গড়া ঈশ্বরের কাজ। দেশের মানুষ তাই রাজাকে ঈশ্বর মানত। নিজেদের কোনোকিছু প্রাপ্তির জন্য তারা রাজার নিকট প্রার্থনা করত। প্রাচীন চীনের মানুষ ছিল অতিসরল ও আনন্দপ্রিয়। সরল মানুষের দেশের ভাববিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ভাষাটি কিন্তু জবর কঠিন— বর্ণমালা জিলাপির পঁ্যাচের মতো জটিল। ফলে চীনের দেশীয় নাম চুংকুও বিদেশিদের জিবেই ঠিকমতো না আসা কিংবা ছিন রাজবংশের অপেক্ষাকৃত সহজ উচ্চারণের কারণে বিদেশিরা চীনকে ছিনদের দেশ বলে ডাকত। সেই থেকেই আস্তে আস্তে চুংকুও হয়ে গেল চীন। চীন নামক দেশটি বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর মতই বিচিত্র। বলা যায় পুরো পৃথিবী চীন নামক দেশটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। চীনকে জানা অর্থ তাই এক অর্থে পৃথিবীকে জানা। গল্পের আদলে লিখিত বইটির মাধ্যমে চীনকে জানার সে চেষ্টাই করা হয়েছে।