একদিন ছন্দের শাসন, বেড়াজাল ভেঙে কবিতা হয়ে ওঠে গদ্যাভিমুখী, গদ্যের দিকে যাত্রা শুরু করলেও কবিতায় রয়ে যায় দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের সুর; নানা শব্দ, উপাদান ও কথ্যরীতি গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গদ্য-পদ্যের বিরোধ এবং নিষ্পত্তি। গদ্যের শিরায় বইছে ছন্দের গোপন স্রোত, রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (১৮২০-১৮৯১) গদ্যে লক্ষ্য করেছিলেন 'একটি অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত'।
মাইকেল মধুসূদন (১৮২৪- ১৮৭৩) প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষরকেই বলা যায় 'গদ্যবন্ধের অভিমুখে পদ্যবন্ধের প্রথম সুস্পষ্ট পদক্ষেপ'। ভাঙা-অমিত্রাক্ষরে নির্মিত নাট্য-সংলাপেও 'গদ্যসুলভ বাভঙ্গি' লক্ষণীয়। ১৮৮৪ সালে রাজকৃষ্ণ রায় তাঁর 'বর্ষার মেঘ' নামক কবিতার পাদটীকায় লিখেছিলেন 'যে সকল গদ্যে পদ্যের কাব্যাত্মক ভাব থাকে সেই সকল গদ্যের কোন কোন বিষয় এইরূপ পদ্য-পৌক্তিক প্রণালীতে সাজাইয়া লেখা আমার বিবেচনায় ভাষার একটি নতুন অঙ্গ'। একটু উদ্ধৃতি দেয়া যায়: