ফ্ল্যাপে লিখা কথা
সকল দেশের মানুষই এক। আমাদের লোককবি বলিয়াছেন- ‘নানান বরন গাভীরে ভাই একই বরন দুধ-আমি জগৎ ভরমিয়া দেখলাম একই মায়ের পুত’।
‘সব দেশেরই মানুষ তাই ভালো। রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিবাদ হয় তাহাতেও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যায় না। আমার এই ভ্রমণ কাহিনীতে সেই মানুষের কথাই বলিয়াছি। মানুষকে যাঁহারা মনের মিতালি গড়িয়ে চান আমার এই পুস্তক পড়িয়া তাঁহারা কিছুটা মনের তৃপ্তি পাইবেন’।
“আবার দেশে ফিরিয়া যাইতে ইচ্ছা করে না? জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা উত্তর করিল, “দেশের মাটি, বাতাস সবসময়ই আমাদের আকর্ষণ করিতেছে; কিন্তু দেশ তো আমরা চিরজনমের মতো হারাইয়া আসিয়াছি। আমাদের বাড়ি-ঘর সব লুট হইয়া গিয়াছে। আর কি কোনোদিন দেশে ফিরিয়া যাইতে পারিব? ‘সেদিন দেখি আমার ঘরের দরজায় একখানা চিঠি, তাহাতে খোকা লিখিয়াছে, কাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার মা আপনাকে সান্ধ্যভোজনের নিমন্ত্রণ করিয়াছেন। এই গরিব ছেলের বাড়িতে যাইয়া নিমন্ত্রণ খাইয়া তাহাদের বৃথা খরচের মধ্যে ফেলিতে মনে বড়িই সঙ্কোচ লাগিতেছিল। তা ছাড়া কালকে আমার অন্য নৈশভোজনের নিমন্ত্রণ আছে। তাড়াতাড়ি সেই ছেলেটিকে খুঁজিয়া বাহির করিয়া বলিলাম, খোকা! কাল আমার অন্য জায়গায় নিমন্ত্রণ আছে। আমি যদি পাঁচটা হইতে ছয়টা পর্যন্ত তোমাদের বাড়িতে যাইয়া গল্পসল্প করিয়া আসি, তবে কেমন হয়? খোকা সানন্দে রাজি হইল’।