খুব খারাপ লাগা সময়ে, মানে খুব কষ্টে থাকার সময়ে আমি আমার মায়ের ছবিটা মনে করার চেষ্টা করি। কিন্তু মায়ের ছবিটা আমার মধ্যে এসেও কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। হয়ে যায় অস্পষ্ট। কত যে চেষ্টা করি মায়ের ছবিটা মনের মধ্যে ফুটিয়ে তোলার! কিন্তু কিছুতেই মায়ের ছবিটা ঠিকমতো বুকের মধ্যে, মনের মধ্যে আনতে পারি না। আমি তখন গলাকাটা মুরগির মতো ছটফট করি। কিছুতেই স্বস্তি আসে না। কেমন যে লাগে তখন! সেই ছটফট করার সময়, স্বস্তি না আসার সময় আমার ভেতরে কে যেন প্রশ্ন শুধোয়, আচ্ছা, মায়ের ছবিটা যেন কেমন?
এই প্রশ্নটা আমার নিজেরও। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি। মায়ের ছবি তো মায়ের মতোই হবে, নাকি? উপলব্ধি করি, পৃথিবীর সব মায়ের চেহারা, রূপ-রস-গন্ধ, আদর-সোহাগ, ভালবাসা, স্নেহ-মমতা তো একই রকমের হবে, নাকি? উপলব্ধির অপার বিস্ময় আর মুগ্ধতার মিশেলে আমি এটাও জেনেছি, পৃথিবীর সব মায়ের ভালবাসাও এক এবং অদ্বিতীয়। শৈশবে যে সহজ জিনিসগুলো আর সবাই চট করে ধরে ফেলতে বা বুঝে উঠতে পারে, কী কারণে জানি না আমার অবস্থান ছিল তার ।