ফরিদপুর জেলার চান্দেরচর গ্রাম। হাল অবস্থা গ্রামের মধ্যাংশে ছোট একটি বাড়ী। বাড়ীতে চৌচালার টিনের নির্মিত মাঝারি ধরনের একটি গৃহ। ইহাই প্রভাতের মূল গৃহ। গৃহের সম্মুখভাগে একটি বারান্দা। পিছনে একটি রান্না গৃহ। মা লক্ষ্মীর দয়ায় বাড়ীতে গৃহ বলিতে এই দুইটিই মাত্র। তাহার থাকর গৃহে আসবাবপত্র বলতে একটি চেয়ার, একটি টেবিল, একটি আলমিরা আর একটিমাত্র পালঙ্ক। পালঙ্কখানি গৃহের যে স্থানে স্থাপন করা হইয়াছে ইহার এক প্রান্তে গৃহের সম্মুখের দরজা। পার্শ্বে একটি জানালা।
প্রভাত বাড়ীর বাহিরে কোথাও ভ্রমণে গেলে রাত্র নয়টার মধ্যে বাড়ী ফিরিবার অভ্যাস। প্রভাত যতক্ষণ পর্যন্ত বাড়ী ফিরিয়া না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রভাতের সতীস্বাধ্বী সহধর্মিণী ঊষা কবাট বন্ধ করিয়া জানালা খুলিয়া ইহারই এক পাল্লায় গা হেলান দিয়া পালঙ্কে বসিয়া স্বামীর আগমনের অপেক্ষা করিত। অভ্যাসবসত অন্যান্য দিনের মত আজিও ইহাই করিতেছে। নয়টা বাজে, সারে নয়টা বাজে, ক্রমে দশটা বাজিল। কিন্তু স্বামী ফিরিতেছে না দেখিয়া তাহার ইতস্তত ভাব উপস্থিত হইল। ঊষা পালঙ্ক ছাড়িল, মেঝেতে পায়চারী করিতে লাগিল।