দহন দ্যোতনা মূলত মানুষের অন্তর্গত জ্বালার নীরব মানচিত্র। এখানে আগুন কোনো দৃশ্যমান শিখা নয়; এটি স্মৃতি, অপরাধবোধ, অসমাপ্ত প্রশ্ন ও অনুচ্চারিত ভালোবাসার ধীর দহন। কবিতাগুলো ব্যক্তিগত বেদনা থেকে শুরু করে সামষ্টিক ক্লান্তি পর্যন্ত বিস্তৃত-যেখানে সময় একটি ক্ষয়মান ধাতু, সম্পর্ক একটি ভাঙা আয়না, আর ভাষা নিজেই নিজের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করে। কবি সরাসরি উত্তর দেন না; বরং প্রশ্নকে স্তরে স্তরে জ্বালিয়ে দেন-জীবন কি কেবল সহনশীলতার অনুশীলন, নাকি দহনই আমাদের সচেতন করে?
এই কাব্যে শহর, পরিবার, স্মৃতি ও শরীর-সবই প্রতীকে রূপ নেয়। নীরবতা এখানে শব্দের চেয়েও উচ্চকিত; অপেক্ষা এখানে গন্তব্যের চেয়েও দীর্ঘ। কবিতার ভেতর দিয়ে চলতে চলতে পাঠক অনুভব করেন-দহন মানে ধ্বংস নয়, দহন মানে রূপান্তর।
আগুন পোড়ায়, আবার আলোও দেয়। তাই দহন দ্যোতনা একদিকে ক্ষয়ের কাব্য, অন্যদিকে টিকে থাকার নৈতিকতা। এই কাব্য অস্বস্তির ভেতর দিয়ে মানবিক বোধকে শাণিত করে-যেন প্রতিটি পোড়া স্তর পেরিয়ে মানুষ নিজের গভীরতর সত্যের মুখোমুখি হতে পারে।