ঢোঁড়াই চরিত মানস উপন্যাসটি দুটি 'চরণ' অর্থাৎ খণ্ডে বিভক্ত। উপন্যাসটির প্রথম চরণ ১৯৪৯ সালে এবং দ্বিতীয় চরণ ১৯৫১ সালে কোলকাতার বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে এই উপন্যাসের গঙ্গাধর মধুকর কৃত হিন্দি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
এই উপন্যাসের পটভূমি বিহারের জিরনিয়া শহরের অদূরে তাৎমাটুলি। জাতে তাঁতি এই তাৎমাদের বৃত্তি ঘরামি ও কুয়োর বালি ছাঁকা। পাশের ধাঙ্গড়টুলিতে বড়ো হওয়া পরিত্যক্ত অনাথ বালক ঢোঁড়াই এই উপন্যাসের নায়ক। স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষ পর্বের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসে লেখক নায়ক ঢোঁড়াইকে করে তুলেছেন রামচন্দ্রের আধুনিক সংস্করণ। রাজনৈতিক চেতনা সমাজের নিচুতলায় প্রবেশ করে কীভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় এবং ঢোঁড়াইকে "রামায়ণজী"-তে পরিণত করে, তা-ই এই উপন্যাসের উপজীব্য। রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তন ও সমাজের অন্ত্যজ মানুষের বিশ্বস্ত রূপায়ণ এবং রামচরিতমানসের সঙ্গে আধুনিক কাহিনির অন্তর্বয়ন এই তিনদিক থেকে এই আখ্যান বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর অন্যতম।