বর্ষণ। ধোঁয়াশা অস্পষ্ট করে দিয়েছে চারদিক- দূরের গাছগুলো, টিলা, টিলাসংলগ্ন বাড়িঘর কিংবা সীমান্তের ওপার থেকে কাঁকড়া খুঁজতে আসা দেহাতীদেরও দেখা যায় না। কাঁধের লাঠিতে খলুই ঝুলিয়ে হাঁটু পর্যন্ত ধুতি ওঠানো কালো রঙের মানুষগুলো নিশ্চয় এ বৃষ্টিতে আসেনি। ওদের বাড়ির সামনের দুই টিলার মাঝখানের সরু রাস্তা দিয়ে ওরা আসে। সারি বেঁধে হাঁটে, একের পেছনে অন্যজন। বেশ লাগে দেখতে। ওদের দৃষ্টি সোজাসুজি সামনের দিকে থাকে, কখনো চোখাচোখি হওয়ার সুযোগ খুব কমই থাকে। কাছে দাঁড়িয়ে কথা না বললে নিজেরা আগবাড়িয়ে কথা বলে না। ওরা যখন আসে, আরজাতুনের মেয়েরা কাছে দাঁড়িয়ে ওদের দেখে। দেহাতীত মানুষেরা মেয়েদের দিকে তাকায় না- বোধহয় অন্য মেয়েদের দিকে তাকানো অভ্যাস ওদের নেই, অথবা ওরা নারী দেখলেই নাক টেনে গন্ধ নিতে শিখেনি। অথবা এটা ওরা শিখতেই চায় না। ওদের অভ্যাসের মধ্যে নেই। পৌরুষে বাধে। এভাবে গন্ধ-শোঁকার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দিন কাটায় না। পথেঘাটেও হাঁটে না।