মিস্টার জর্জ গোর প্রতিদিনের মতো আজও সকালে ব্যায়াম করতে বেরিয়েছেন। এই ভদ্রলোককে দেখলেই বোঝা যায় কত পরিশ্রমী তিনি। সেই গুলশান এক নম্বর থেকেই দৌড় শুরু করে মহাখালী, ফার্মগেট, বাংলামোটর হয়ে মগবাজার, সাতরাস্তা পর্যন্ত একটানা দৌড়ান। সাতরাস্তা থেকে একটু ধীরে ধীরে হেঁটে বাসায় ফেরেন। আজ হরতালের দিন হলেও তিনি বিশ্রাম নেননি। রুটিনমাফিক জগিংয়ের এক পর্যায়ে তিনি সাতরাস্তায় এসে পৌঁছান। গতি কিছুটা কমিয়ে হাঁটতে থাকেন। টেংকু প্রতিদিন প্রায় একই সময় তাকে এখান দিয়ে যেতে দেখে। আজকে একটু পরিকল্পিতভাবেই টেংকু মিঃ গোরকে দেখে। সকালের জগিংয়ের সময় প্রায়ই তিনি বিভিন্ন রংয়ের হাফপ্যান্ট ও জার্সি পরে দৌড়ান। এক পর্যায়ে তার সমস্ত শরীর ভিজে কাপড় গায়ের সাথে লেপ্টে থাকে। টেংকু এই অবস্থায় তাকে প্রায় দেখে। টেংকু ভবঘুরে ছেলে। গরীব পরিবারের সদস্য হওয়ায় স্কুলে পা দেবার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু তার মনে ছিল প্রবল ইচ্ছা-লেখাপড়া শিখবে। তার সাথে আলাপ করলেই তার মধ্যে প্রতিভার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। দুষ্টও বটে-যাকে বলে ডানপিটে।