হৃদয় রেজওয়ান গল্পকার হিসেবে নিজেকে ক্রমশ বিকশিত করে চলেছেন, এখনও যদিও পাঠকমহলে ততোটা পরিচিত নন। কিন্তু তাঁর রচনায় রয়েছে সেই শক্তি যা থেকে সহজেই পাঠক তাঁর স্বাতন্ত্র্য বা অনন্যতাকে চিনে নিতে পারেন। গল্পের বিষয় নির্বাচন, কাহিনি নির্মাণ, বর্ণনা এবং তারপর সমাপ্তিটুকু সর্বত্র তিনি তাঁর এই স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনার ঘনঘটা নেই, প্রায় সহজ-সরল বাকভঙ্গি, প্রায় সাদামাটা বর্ণনা। কিন্তু পড়ার সময় পাঠকের মনে এক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা যেন কাজ করে:
কোথায়, কাহিনির কোন মোড়ে তাঁর জন্য একটা চমক বা ধাক্কা দাঁড়িয়ে আছে। হৃদয় রেজওয়ানের রচনার শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যটা আসলে এখানেই। লেখক যেন জেনেশুনেই নিজের জন্য এই পথটা বেছে নিয়েছেন। সহজ জনপ্রিয়তা তাঁর লক্ষ্য নয়, গতানুগতিকতার পথ এড়িয়ে চলতে চান। আর তা সচেতনভাবে, সযত্নে। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এই সময়ে যাঁরা নতুনত্বের সন্ধানী, জীবন ও সমাজসত্যের উপস্থাপনেও যাঁরা ভিন্নরকম স্বরের জন্য অপেক্ষমাণ, এই গল্পগ্রন্থটি তাঁদের কাছে আশার বার্তা নিয়ে হাজির হবে।