কুরআনিক দুআ
মহাপ্রতিপালক মনিব তাঁর সৃষ্ট বান্দাদের অনন্ত জীবনে জান্নাতে নিতে চান। তিনি জানেন- বান্দা ভুল করে, অপরাধ করে; আর তিনি অপেক্ষা করেন ক্ষমা আর দয়া নিয়ে। তিনি চান- বান্দারা তাঁর কাছে মুক্তির আর্জি পেশ করুক, ক্ষমা প্রার্থনা করুক। রবের কাছে যেভাবে বান্দারা কিছু চায়, তা অপর্যাপ্ত ও অপূর্নাঙ্গ হতে পারে, তাই তিনি নিজেই আবেদন প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিয়েছেন কুরআনুল কারিমে। কোন ভাষায়, কোন শব্দে, কোন কথামালায় চাইতে হবে, তা আমাদের শিখিয়েছেন নিজেই। এই গ্রন্থে আমরা এমন সব কুরআনিক দুআ নিয়ে জানব, যা বান্দা হিসেবে রাব্বুল আলামিনের সাথে আমাদের সম্পর্ক এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
দুআ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার
দুআ কি কোনো জাদুমন্ত্র? সব দুআই কি কবুল হয়? কী করলে দুআ কবুলের সম্ভাবনা বাড়ে? কী করলে দুআ বিফল হয়? দুআর মাধ্যমে কি তাকদির বদলানো যায়? তা হলে আগে থেকে সব লিখে রাখার মানে কী? দুআ করতেও কি কিছু আদবকেতা মানা লাগে? হামেশাই এই প্রশ্নগুলো আপনাকে পেয়ে বসে, তাই না? দুআ নিয়ে আমাদের মনে যত প্রশ্ন আছে, সন্দেহ আছে, তার বেশিরভাগেরই জবাব মিলবে এ বইতে ইনশাআল্লাহ্। বাড়বে দুআ কবুল হওয়ার আত্মবিশ্বাস। দূর হবে দুআ নিয়ে প্রচলিত কিছু ভ্রান্তিবিলাস। দুআ শুধু বিড়বিড় করে পড়ে যাওয়া কিছু অবোধ্য শব্দকণা নয়। দুআ মানে সুমহান আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় কথপোকথন। বিশ্বাসীদের অব্যর্থ হাতিয়ার।
রব্বানা
পবিত্র কুরআনের অনেক দুআ ‘রব্বানা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। নবি-রাসূলগণ রব্বানা বা ‘হে আমার রব’ বলেই দুআ শুরু করতেন। সেই দুআগুলো আল্লাহ তায়ালার অনেক প্রিয়। তাই তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরও শিখিয়েছেন, যেন আমরাও রব্বানা বলে তাঁর কাছে দুআ শুরু করি। পবিত্র কুরআনে রব্বানা দিয়ে শুরু হওয়া সেই দুআগুলো নিয়েই আমরা এই বইটি সাজিয়েছি। এখানে যেমন সবগুলো দুআর সরল বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ আছে, তেমনই দুআগুলোর পেছনের গল্প বা প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করা হয়েছে সহজবোধ্যভাবে। তাই দুআ করার সময় শিশুদের হৃদয়পটে ভেসে উঠবে এই দুআটি কোন নবি কোন প্রেক্ষাপটে করেছিলেন। তখন তাদের অন্তরে অনুভূত হবে নবির এই দুআটি আল্লাহ তো কবুল করেছিলেন, ইনশাআল্লাহ আমার দুআটিও তিনি কবুল করবেন।