পরম করুণাময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টিসমূহের মধ্যে মানুষ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এ মানুষের সৃষ্টি সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের জন্য। মানুষ যাতে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত না হয় শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বেদিশা না হয়ে পড়ে- সে জন্য আল্লাহ্ তা’আলা মানুষের হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেন। আর তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রিয় কাজ ছিল দীনের দাওয়াত। আমরা জানি, যাঁরা আল্লাহ্র বাণী গ্রহণ করেছেন তাদের কাছে ইসলামের কথা পৌঁছানো হচ্ছে দাওয়াত। আর যারা আল্লাহ্র বাণী বা ইসলাম গ্রহণ করেনি তারেকে ইসলাম গ্রহণের আহŸান হচ্ছে দাওয়াত।
আল্লাহ্ তা’আলা সূরা মায়িদা’-তে বলেছেন “তোমার প্রভু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তোমার কাছে পৌঁছানো হয় তা তোমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও” (৫ ঃ ৬৭)। অন্য দিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন “আমার পক্ষ থেকে তোমরা প্রচার কর যদিও তা একটি বাক্য মাত্রও হয়।” পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে আমরা দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি। বলা দরকার যে যেহেতু নবী রাসূলের যুগ শেষ হয়ে গেছে বা নবুওয়াতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে সে কারণে এ দায়িত্ব রয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতিটি অনুসারীর উপর। এ দায়িত্ব পালনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। একে অবহেলা বা উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই।
বিশিষ্ট লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ এ. জেড. এম. শামসুল আলম তাঁর ‘দীনি দাওয়াতের রূপরেখা’ গ্রন্থে এ বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। পরিবর্তনশীল সময় ও চিন্তা-চেতনার প্রেক্ষাপটে সা¤প্রতিককালে বিশ্বব্যাপী ইসলামী দাওয়াতী কার্যক্রমের অধিকতর সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় জনাব শামসুল আলমের এ গ্রন্থখানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকারী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। সে বিবেচনা থেকেই বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ থেকে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হলো। আশা করি,