নারীদের তাফসিরুল কুরআন
‘নারীদের তাফসিরুল কুরআন’—কুরআনে বর্ণিত নারীবিষয়ক সবগুলো আয়াতের সহজ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির সংকলন। নারীর জীবনকে নারীময় ও কুরআনময় করার একটি বিনয়ী আবেদন।
কুরআনের অনেক আয়াতে শুধু নারীদেরকে সম্বোধন হয়েছে। সে সব আয়াতে মাসআলা-মাসায়েলের পাশাপাশি সমাজে নারীদের অবস্থানের কথা, নারীদের যোগ্যতা ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ-সুন্দর সমাজগঠনে তাদের দায়িত্বের কথাও উপস্থাপন করা হয়েছে যৌক্তিক ভাষায়।
পবিত্র কুরআনের ওসব আয়াত নারীরা তেলাওয়াত করছেন প্রতি মাসে কিংবা সময়ে সময়ে। আয়াতগুলো তাদেরকে সম্বোধন করছে, তাদের সাথে কথা বলতে মুখিয়ে আছে; কিন্তু তারা কি তা বুঝতে পারছেন, কুরআনের সাথে আলাপ জুড়াতে পারছেন?
বাংলাভাষায় অনূদিত বড় বড় তাফসিরগ্রন্থ আছে। কিন্তু খুব কম নারীই আছেন, যারা এসব পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পড়লেও তারা ধরতে পারছেন না, কোন কোন আয়াতে বিশেষভাবে তাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে? ফলে বাংলা ভাষাভাষী বিশাল নারী-জগৎ পবিত্র কুরআনের স্বাদ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন!
রাহনুমা’র প্রকাশনায় মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ রচিত ‘নারীদের তাফসিরুল কুরআন’ সহজ বাংলাভাষ্যে বাংলাভাষাভাষী নারীদের জন্য এক অসামান্য কুরআনের দরস। যেখানে একজন নারী নিজেকে খোঁজে পাবেন তাকে সম্বোধন করা কুরআনের প্রতিটি পাতায় পাতায়, আল্লাহর পবিত্র বাণীতে।
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নারীর চেহারা পর্দাভুক্ত নয় কি?
পর্দা ইসলামের ফরজ বিধান। নামাজ-রোজা-হজ-জাকাতের মতোই পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। পর্দা রক্ষা করে চলা ঈমান রক্ষা করে চলার শামিল। কারণ,আল্লাহ তায়ালা ঈমানদার নারীদেরই পর্দা রক্ষা করে চলার নির্দেশ প্রদান করেছেন। পর্দার মাসআলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল,নারীর চেহারা। নামাজ অবস্থায় এবং ইহরাম অবস্থায় নারীর চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। মাহরামদের সামনেও নারীর চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু গায়রে মাহরামদের সামনে নারীর চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত। এটিই স্বতঃসিদ্ধ মাসআলা । কিন্তু আধুনিক আলেমদের কেউ কেউ মনে করেন,নারীর চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেউ চাইলে খোলা রাখতে পারে,তবে ঢেকে রাখাই উত্তম। বিশেষ করে তাদের অনেকেই চেহারা খোলা রাখার জন্য শর্ত আরোপ করেছেন যে,চেহারা সুন্দর হওয়া যাবে না,চেহারায় সাজসজ্জা করা যাবে না। ফেতনার আশঙ্কা থাকলে চেহারা ঢেকেই রাখতে হবে। কিন্তু তাদের এ ফতোয়ার অপব্যবহার করে (শর্ত-শারায়েত সব গায়েব করে দিয়ে) এক শ্রেণির মানুষ চেহারা খোলা রাখাকেই মূল বিধান ও প্রকৃত ইসলাম বানিয়ে দিয়েছেন। এই গ্রন্থ সেইসব ভুল চিন্তা ও অসম্পূর্ণ ফতোয়ার বিপরীতে কুরআন ও হাদিস থেকে এক এক করে উন্মোচন করে দেখিয়েছে নারীর চেহারার কতটা বাধ্যতামূলক পর্দাভুক্ত। আমাদের সমাজের রক্ষণশীল মুসলিম নারীরা সবসময়ই একটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেন এরকম,যেটুক পর্দা করছেন তা বেশি হয়ে গেল কি না! কিংবা আবার একটু শিথিলতা করলে ভাবেন,পর্দা কম হয়ে গেল কি না! এই গ্রন্থ এইসব সংকটকে খুব সহজেই কুরআন ও হাদিসের টেক্সটে সমাধান করে স্পষ্ট দেখাবে নারীর চেহারায় পর্দার ইসলামি বিধান কোনসময় কতটুকু প্রয়োজন। কলেবরে ছোট হলেও প্রয়োজন,তথ্য ও রেফারেন্সের গুণে খুবই জরুরি এই গ্রন্থ। বিশেষ করে আমাদের নারীসমাজের বিশাল সংখ্যক মানুষ ও পর্দাবিষয়ক জানাশোনার জন্য এই বই চমৎকার একটি সংযোজন।
ফিরে এসো নীড়ে
বিখ্যাত আরব লেখিকা ও দাঈয়া সাইয়্যিদ ফাতিমা বিনতে খলীল। ‘ফিরে এসো নীড়ে’ মূলত উনার বিখ্যাত বই ‘দাওরুল মারআতিল মুসলিমাহ বাইনাল আসালাহ ওয়াল মুআসারাহ’ কিতাবের বাংলা অনুবাদ।
.
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, নারীদের বিষয়ে একজন নারীরই লেখা। যেন প্রিয় বোনের প্রতি প্রিয় বোনের উপদেশ এবং প্রিয় বোনের পক্ষে প্রিয় বোনের ওকালতি— যে তাদের মন বোঝে, প্রয়োজন বোঝে। যার অকৃত্রিম আন্তরিক উপদেশে নারী পাবেন একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা, সমাজের একটি অংশের যোগ্য প্রতিনিধি এবং অপর অংশের সফল কারিগর; সর্বোপরি দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ দাঈয়া হিসেবে একটি নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা।