আঠারো শতকের প্রখ্যাত ধর্মতাত্ত্বিক উইলিয়াম পেইলির সেই বহুল আলোচিত 'ঘড়ি নির্মাতা'র যুক্তিতে রিচার্ড ডকিন্স হেনেছেন এক অমোঘ বৈজ্ঞানিক আঘাত। পেইলি দাবি করেছিলেন, পথে কুড়িয়ে পাওয়া একটি জটিল ঘড়ি যেমন তার নির্মাতার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ, প্রকৃতির এই সুনিপুণ কারুকাজও তেমনই কোনো এক ঐশ্বরিক পরিকল্পনাকারীর জানান দেয়। রিচার্ড ডকিন্সের কালজয়ী গ্রন্থ 'দ্য ব্লাইন্ড ওয়াচমেকার' -এর এই বাংলা অনুবাদে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেখানো হয়েছে যে, প্রকৃতির এই বিস্ময়কর নকশার পেছনে কোনো সচেতন অলৌকিক শক্তির প্রয়োজন নেই। ডারউইনের 'প্রাকৃতিক নির্বাচন' কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই অন্ধভাবে কাজ করে- ঠিক এক 'অন্ধ ঘড়ি নির্মাতা'র মতো, যে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই কোটি কোটি বছরের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় বুনে চলেছে প্রাণের অদ্ভুত সব জটিলতা। বিজ্ঞানের জয়গান গাওয়া এই ধ্রুপদী গ্রন্থে ডকিন্স তাঁর তীক্ষ্ণ যুক্তিতে প্রমাণ করেছেন কীভাবে অতি ক্ষুদ্র ও সরল ধাপ থেকে আজ আমরা এই মহিমান্বিত বৈচিত্র্যের শিখরে পৌঁছেছি। বিবর্তনবাদের জটিল গোলকধাঁধাকে সাধারণের বোধগম্য করে তোলা এই বইটি কেবল একটি বিজ্ঞানবিষয়ক কাজ নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের মূল খোঁজার এক অনন্য দার্শনিক অভিযাত্রা।