একশ তেরো বছর আগে নতুন ভাষায় কবিতা লিখতে শুরু করেন এক মার্কিন তরুণ। এলিয়ট তখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯১৪ সালে পড়তে আসেন অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে। সঙ্গে নিয়ে আসেন অপ্রকাশিত কবিতা। প্রুফ্রক অ্যান্ড আদার অবজারভেশন । কবছর আগে লন্ডনে আসা পাউন্ড তাকে বোঝান,আমেরিকা নয়,লেখার পরিবেশ পাওয়া যাবে লন্ডনে। পাউন্ডের পরামর্শে থেকে গেলেন যুক্তরাজ্যে। বিয়ে করেন ইংরেজ তরুণী ভিভিয়েনকে। ব্যর্থ বিয়ের তিক্ততা থেকে লেখা হয় ওয়েস্ট ল্যান্ড । পরিচয়ের শুরুতে প্রফ্রক পড়ে মুগ্ধ পাউন্ড। স্বদেশি তরুণের লেখায় খুঁজে পান ভবিষ্যতের কবিকে। পঁচিশ বছরের এলিয়ট,আটাশ বছরের পাউন্ডের বন্ধুত্ব সাহিত্যের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইংরেজি কবিতার পুরনো কাঠামো ভেঙে সেখানে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেন দুজনে । বিশ শতকে ইমেজিস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পাউন্ড বুঝতে পারেন এই তরুণের কলমে লেখা হবে বাঁকবদলের কাব্য । স্বতন্ত্র কাব্যভাষা,দুঃসাহসী চিত্রকল্প,ব্যতিক্রমী উপমায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এলিয়ট। পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। হয়ে উঠেছেন ইংরেজি কবিতার প্রধান কবিদের একজন।