ইতিহাসের এই পর্বে আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের বলয়ে মুসা আল হাফিজ অনিবার্য এক নাম। তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ বহুরৈখিক। কবিতা মুসা আল হাফিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণের একটি শাখামাত্র। বলা বাহুল্য, এই শাখা পত্রপল্লব শোভিত এবং সুগন্ধযুক্ত। প্রকৃতপক্ষে মুসার কবিতা সার্বভৌম বাংলা কবিতার চিন্তা ও চিত্রের সমষ্টি। তাঁর কাব্যবোধ পরিশীলিত হয়েছে দর্শন ও সৌন্দর্যতত্ত্ব দ্বারা।
আলোচ্য ‘ঈভের হ্রদের মাছ’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠান্তে আমার মনে হয়েছে- এটি বাংলা কবিতার ধারাবাহিকতায় একটি উল্লেখযোগ্য রচনা। এর বিষয়, ভাষার বিন্যাস, বাক্যের চলন, মর্মসুর এবং অন্তর্গত কথকতার কারণেই এটি স্বতন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ।
এ কথা ধ্রুব সত্য প্রায়- যে কবি বিষয় ও ভাষায়, সুরে ও স্বরে আলাদা হয়ে যায় অমরতা তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে। আমি বলব না মুসা আল হাফিজ অমর কবি। আমি শুধু বলব, মুসা আল হাফিজ তাঁর ‘ঈভের হ্রদের মাছ’ কাব্যগ্রন্থটির বিষয়ে, ভাষায় ও ইনার টিউনে নিজস্বতা নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলা কবিতার পাঠক, আপনাকে স্বাগত জানাই মুসা আল হাফিজের জ্ঞানগৃহ ও সৌন্দর্যের দুনিয়ায়। মুসা আল হাফিজের এই কবিতার বই আপনাকে সময় থেকে সময়হীনতার দিকে নিয়ে যাবে। এই বই আপনাকে এই দেশ, মহাদেশ ও মহাবিশ্বে মানসভ্রমণ করাবে। আপনি এই বই পড়ছেন মানে আপনি পরিব্রাজক হতে বাধ্য। জগত-সংসারে কে না হতে চায় পরিব্রাজক?