প্রণয় সবার জীবনেই আসে। কারও জীবনে সে এক জোড়া চড়ুইয়ের মতো—আজীবন পাশাপাশি উড়ে চলে; আবার কারও জীবনে হঠাৎ ধেয়ে আসা ঝড়ের মতো এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। অথচ তাদেরও কত স্বপ্ন ছিল—একসঙ্গে বেঁচে থাকার, বার্ধক্যে পাশাপাশি বসে সূর্যাস্ত দেখার, শেষ বিকেলে হাত ধরে নদীর পাড়ে হাঁটার কিংবা মেঘলা দিনে বাগানের এক কোণে বসে দু’কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের উষ্ণতায় নিজেদের হারিয়ে ফেলার।
কিন্তু জীবনের প্রতিটি গল্প তো আর স্বপ্নের মতো পূর্ণতা পায় না। কিছু গল্প মাঝপথেই থেমে যায়, কিছু প্রতিশ্রুতি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়, আর কিছু ভালোবাসা আজীবন অপূর্ণতার ভার বয়ে বেড়ায়।
এই যৌথ উপন্যাস তেমনই এক গভীর ভালোবাসার কাহিনি—যেখানে প্রেমের পাশাপাশি আছে ত্যাগ, অপেক্ষা, বিশ্বাস, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি, বিচ্ছেদ এবং নিয়তির নির্মম পরিহাস। প্রতিটি অধ্যায় পাঠককে নিয়ে যাবে অনুভূতির একেকটি নতুন দ্বারে; কখনো সেখানে জ্বলবে আশার আলো, কখনো ঘনিয়ে আসবে অনিশ্চয়তার অন্ধকার, আবার কখনো নীরবতার আড়ালে শোনা যাবে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাস।
ভালোবাসা সবসময় মিলনের নাম নয়। কখনো কখনো ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে অপেক্ষায়, ত্যাগে এবং অপূর্ণতায়। কারণ কিছু মানুষ জীবনে থেকে যায় না, তবু তাদের রেখে যাওয়া অনুভূতি থেকে যায় আজীবন।
সেই অপূর্ণ অথচ গভীর ভালোবাসার গল্প, কিছু স্বপ্ন, কিছু অপেক্ষা আর কিছু না-পাওয়া অনুভূতির কথাই তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রয়াস এই যৌথ উপন্যাস।