এ বইয়ের প্রবন্ধগুলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা; কিন্তু এদের সব কটির পেছনেই একটা অসন্তোষ আছে। বস্তুত অসন্তোষ ছাড়া কোনো সৃষ্টিই সম্ভব নয়। তবে এখানে কার্যকর যে অসন্তোষ তা ব্যক্তিগত নয়,সমষ্টিগত। লেখক ইতিহাসের দিকে তাকিয়েছেন,এবং স্বভাবতই দেখতে পেয়েছেন পুঁজিবাদের মনুষ্যবিদ্বেষী দৌরাত্ম্য। পুঁজিবাদ চরিত্রগতভাবেই পিতৃতান্ত্রিক। লেখকের অসন্তোষ সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর ওই দুই শত্রুর আধিপত্য নিয়েই। ভেতরে ভেতরে একটা আকাঙ্ক্ষাও আছে। আকাঙ্ক্ষা মুক্তির। বস্তুত ওই আকাঙ্ক্ষাটাই অসন্তোষের মূল কারণ। লেখাগুলোকে তাই মোটেই উদ্দেশ্যবিহীন বলা যাবে না; কিন্তু উদ্দেশ্যের প্রকাশটা ঘটেছে সাহিত্যিক উপায়ে। যে কোনো প্রবন্ধে বক্তব্যটাই হয়ে দাঁড়ায় প্রধান,কিন্তু কোনো প্রবন্ধই নাড়া দেয় না যদি তাতে নান্দনিক গুণ না থাকে। অন্য লেখকদের মতো এই লেখকও তা জানেন।