"ফান্দে পড়িয়া বগা কাঁদেরে" গানটি গ্রামোফোন রেকর্ডে প্রথম যখন ত্রিশ- চল্লিশের দশকে শুনি, তখন এটিকে অপূর্ব মনে হয়েছে দু'টি কারণে। প্রথমতঃ সুললিত কণ্ঠে অপূর্ব দরদমাখানো গান, দ্বিতীয়তঃ এটি গেয়েছেন আব্বাসউদ্দীন, অর্থাৎ আমাদের সর্বকালের সর্বজনশ্রদ্ধেয় সর্বশ্রেষ্ঠ পল্লীগীতি শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ। পরবর্তিতে যতোবার এ গানটি শুনেছি ততবারই একটা বেদনা বিধুর কাহিনী আমার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। মানুষের নিষ্ঠুর আচরণ আর প্রাণীদের অসহায়ত্ব। আমার ছোট এ বইটির নামকরণ করতে গিয়ে সেই গানের কাহিনী আমাকে আলোড়িত করেছে। সে কারণে বইটির এ নামকরণ করেছি। আমি মনে করি শিশুদের জন্য কিছু লেখা সবচাইতে কঠিন কাজ। যেসব ঘটনার অবতারণা লেখাগুলোর মধ্যে করেছি, তার প্রায় সবই বিচ্ছিন্নভাবে কোনোনা কোনো সময়ে ঘটেছে। ঘটনাগুলোকে গ্রথিত করে প্রাঞ্জল ভাষায় সহজভাবে শিশুদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। শিশুদের কচি মনের সংবেদনশীল বিনার তারে মানুষের মনের গভীরে সুপ্ত সহজাত প্রবণতার, প্রেম ও ভালোবাসার কিছুটা ঝংকার তোলার চেষ্টা করেছি।