"ফিরে আয় মাটির পুতুল" বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে নেওয়া
অপ্রত্যাশিত ঘটনায় যখন ভিটে ফেলে চলে যেতে হয় রণদাদের। আমৃত্যু মানবীরা চিঠির ভাজে দুঃখ পুষে রাখে, তুলসিতলায় প্রদীপ জ্বালে তখন এমনি একটি গল্প হয়ে যায় । গল্প হয়ে যায় কোন এক পাহাড়ের কোলে, ছরার জলে, মহাদেও নদীর পাশে, ডিঙ্গি নৌকায় বসে সুনিতারা যখন শাপলা ফুলের মালা গাঁথে, গাঁথা মালার রস চুষে খায় মানুষখেকোরা । সুদূর মহাসাগরে ভেসে থাকা সাম্পান যখন বড়দার সাথে ভ্রমণে যায়, জাহানারা রাধুনীর কাজল দেখে, জিরার সাথে গরমমশলার গন্ধ শুকে, তিমির গহীনে জাহানারা-হীরেনের বালিশ এক হয়ে যায়, হঠাৎ কেন কেউ লাশ হয়ে যায়, তখন গল্প এমনি হয়ে যায় । গল্প হয়ে যায় রতনের মায়াডােরে যখন ফজর আলী বাঁধা পরে । কৃষ্ণপক্ষ রাতে রূপভানরা খিদেয় মরে । চঞ্চলা দত্ত ভালােবেসে চঞ্চলা সুইপার হয়ে যায় । রাক্ষুসে হাওর গিলে খায় সােনাধান, স্বামী কন্যা খুইয়ে রাতের পর রাত হাওরে ভেসে বেড়ায় সন্তোষী । বিপুল প্রযুক্তিলগ্নেও কুমাের পাড়ায় লাল নীল পুতুল থাকে, ভানু মনার সাথে পুতুল ফেরির স্বপ্ন দেখে, প্রবল বর্ষায়ও মাধব ভানুকে খোজে, সেই ভানুকে; যার পুতুল পুতুল মুখটি মাটির ঢিবিতে হারিয়ে যায়-তখন এমনি এমনিই কত গল্প হয়ে যায়। প্রয়ােজন কেবল একজন মালাকারের । “ফিরে আয় মাটির পুতুল”-এ আমি কেবলই একজন মালাকার।