পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে পণ্যের উর্ধ্ব বিবেচনা করার মহত্ত্ব বিরল। তারা নারীকে যেনতেনভাবে কাছে পেয়ে যথেচ্ছ ব্যবহার করতে চায়। ফুলবসন তেমনি এক অসহায় নারীর চরিত্র। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক কানাই কুণ্ডু-র ‘ফুলবসন ও একাদশ পুরুষ’ উপন্যাসে পুরুষের কামনা আর নারীর আত্মসমর্পনের চূড়ান্ত পরিণতি ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের নামকরণের ভেতর দিয়ে অনেকখানি আন্দান করা যায় উপন্যাসের ঘটনাআবহ। কেন্দ্রীয় চরিত্র বসন নানান ধরণ আদমি (পুুরুষ) চিনতে চিনতে জীবন পার করে দিলেও জীবনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে ভুলে না। লেখক বিস্মিত হন, ‘তাকে কি এভাবেই বারবার ঠকে আদমি চিনতে হবে। বুঝতে হবে তার আতমা ধরম পাপ-পুণ্য লোভ। তার এত ছোট একটা জীবনে বাবুদের এতবড় দুনিয়াটা মাপা যায়!” বার বার পরাজিত হতে হতে একদিন অন্ধকারের ভাষায় বসনের নিজের জীবনে জড় হতে থাকে অগণিত প্রশ্ন।